টেড পিট

২ মার্চ, ১৮৫৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হলবেক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

জন্ম নিবন্ধন সনদে তিনি ‘এডমন্ড পিট’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৯ থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ইয়র্কশায়ারের ক্রিকেটের ইতিহাসের শুরুরদিকের অন্যতম সেরা বামহাতি স্পিনার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। অবিচলিত চিত্তে লেগ স্পিন বোলিং করতেন। ইয়র্কশায়ার ক্রিকেটের অন্যতম রক্ষাকবচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ক্লাবটির পক্ষে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিক্রম করেন। সহস্রাধিক প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছেন।

ভ্রাম্যমান দল হিসেবে বিবেচিত ক্লাউন ক্রিকেটার্স দলের সদস্যরূপে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। সৌভাগ্যবশতঃ ইয়র্কশায়ারের মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃক তিনি চিহ্নিত হন। ভেজা উইকেটে নিখুঁত ও খুব কাছাকাছি অবস্থানে বল ফেলে তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতেন। এ পর্যায়ে ১৮৮০-এর দশকের শুরুতে ফ্রেড স্পফোর্থের সাথে বৈশ্বিক পর্যায়ে সেরা বোলার হিসেবে পরিচিতি পান।

১৮৮১ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র নয় টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ২২.০৩ গড়ে ৩১ উইকেট দখল ও ১১.৬৬ গড়ে রান তুলেছিলেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুমে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার শ্রিউসবারি, ডিক পিলিং, ডিক বার্লো, বিলি বেটসউইলিয়াম স্কটনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/৬৪ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪* ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ১ রান করে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৩ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৫ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর, আবারও সিডনিতে অনুষ্ঠিত টেস্টে আট উইকেট দখল করেছিলেন।

একই সফরের ১০ মার্চ, ১৮৮২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। উল্লেখ্য, ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই সর্বশেষ ড্র টেস্ট ছিল। দেশে প্রত্যাবর্তন করে ১৮৮২ সালের গ্রীষ্মে ২১৪ উইকেট লাভ করেন।

১৮৮৪ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডস টেস্টে অপূর্ব খেলেন। সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬/৮৫ লাভ করেন। এরফলে, প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে চিত্রিত করেন। এছাড়াও, লর্ডসে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৫ রানে জয়লাভ করে। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক বিলি মারডককে এলবিডব্লিউতে ১০ রানে বিদেয় করেন। এরফলে, লর্ডসে প্রথম উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। অধিকন্তু, তাঁর বোলিং থেকে খেলার প্রথম চার উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দ্বিতীয় ইনিংসে একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় ইংল্যান্ড দল ইনিংস ও ৫ রানের ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ওভাল টেস্টে ৪/৩১ ও ৪/৪০ পান। তবে, হ্যারি বয়েলের বলে বাজে শট খেলে বিদেয় নিলে সফরকারীরা ৭ রানে জয় পায়। অপর প্রান্তে তারকা ব্যাটসম্যান সিটি স্টাড শূন্য রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরই মাধ্যমে অ্যাশেজের উৎপত্তি ঘটে। সারে সম্পাদক চার্লস অ্যালকক তাঁর এ ধরনের স্ট্রোক খেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘আমি মি. স্টাডকে বিশ্বাস করি না, স্যার।’

১৮৮৬ সালে নিজ দেশে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুলাই, ১৮৮৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩০ ও ১/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয়ে পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১১ মার্চ, ১৯০০ তারিখে ফুসফুসের প্রদাহজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ইয়র্কশায়ারের নিউলে এলাকায় মাত্র ৪৫ বছর ৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Leave a Comment