১৪ মার্চ, ১৯৩৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের কিওগল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ওয়াল্টার ও জেসি দম্পতির তিন পুত্র সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। ওয়ানগারি পাবলিক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, কিওগল ইন্টারমিডিয়েট হাইয়ে ভর্তি হন। ১৫ বছর বয়সে পোস্টমাস্টার-জেনারেল ডিপার্টম্যান্টে টেলিফোট টেকনিশিয়ান হিসেবে চাকুরী করেন। জ্যাক আইভারসনের ন্যায় তিনি প্রকৃতমানসম্পন্ন ‘রহস্যময় স্পিনার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। প্রায়শঃই লেগ-ব্রেকের আড়ালে বিভ্রান্তিকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে রিচি বেনো ও ডন ব্র্যাডম্যানকে হতবুদ্ধিতে ফেলতেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ফার নর্থ কোস্ট ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন।
১৯৬৬-৬৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ওয়াকায় প্রথম খেলায় আট নম্বর অবস্থানে ব্যাটিং করেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ২৩ ওভারে মাত্র এক উইকেট পান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরের খেলায় দ্বাদশ খেলোয়াড় ছিলেন। ঐ মৌসুম শেষে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে দ্বিতীয় একাদশের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে নিজ দেশে চান্দু বোর্দে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। পল শিহানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ট্যামওয়ার্থের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ১৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৬ ও ২/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১৪৬ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
চার-টেস্ট নিয়ে গড়া ঐ সিরিজের প্রত্যেকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তৃতীয় টেস্টে ১৫ ওভার থেকে ০/২০ হলেও ২১ ওভারে ৩/৫০ হয়। শেষ তিন উইকেট নিয়ে স্বাগতিক দলকে ২৯ রানের স্বল্প ব্যবধানের জয় এনে দেন।
১৯৬৮ সালে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ জুন, ১৯৬৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে ১/২১ ও ৩/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৫৯ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২২ আগস্ট, ১৯৬৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। উভয় ইনিংসেই তিনি ডেরেক আন্ডারউডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১০৯ ও ২/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২২৬ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হলেও সফরকারীরা অ্যাশেজ কুক্ষিগত রাখে।
১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৯১ ও ১/১৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
১৯৬৯-৭০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২২ জানুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৯২ ও ৪/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৭ ও ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।
একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ২/৯০ ও ১/১৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। চূড়ান্ত টেস্টে সফরকারীরা ৩২৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ টেস্টের পর পরবর্তী ২২ বছর স্বাগতিক দলটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়।
১৯৭২ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুন, ১৯৭২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৫ ও ১/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮৯ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২২ জুন, ১৯৭২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনে।
একই সফরের ১৩ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২২ ও ০/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৩৬.২০ গড়ে ৯৩ উইকেট দখল করেছিলেন। সর্বোচ্চ ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে এসসিজিতে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। খেলাগুলো থেকে ২৪.৯৫ গড়ে ৪৩০ উইকেট পেয়েছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সান্দ্রা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই পুত্র ও দুই কন্যা রয়েছে। ৮ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ট্যামওয়ার্থ এলাকায় ৭৮ বছর ২০৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।