২৩ জুন, ১৯৮০ তারিখে গায়ানার ওয়াকনাম আইল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ইন্দো-গায়ানীয় বংশোদ্ভূত তিনি। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানা এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার ও লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, স্টানফোর্ড সুপারস্টার্স ও ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৮৭ টেস্ট, ১৮১টি ওডিআই ও ১৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। টেস্টগুলো থেকে ৪০.০১ গড়ে ১৫ শতক সহযোগে ৫৮৪২ রান সংগ্রহ করেছেন। প্রায়শঃই দলের সঙ্কটময় মুহূর্তে শতকগুলোর সন্ধান পেয়েছেন। অধিকাংশ শতরানই চতুর্থ ইনিংসে করেছেন। ছয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামতেন।
২০০০ সালে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৯ বছর বয়সে ১৮ মে, ২০০০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে হার না মানার মানসিকতা তুলে ধরে অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন ও স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। ব্রায়ান লারা’র অনুপস্থিতিতে খেলার সুযোগ পান। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও ১১* রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই বছর জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩১ আগস্ট, ২০০০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মাইক অ্যাথার্টনের চমৎকার ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৫৮ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০০-০১ মৌসুমে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। এ সফরে কঠিন সময় পাড় করেন। উপর্যুপরী পাঁচ ইনিংসে ০, ০, ২, ১ ও ০ রান তুলেন। এরপর, সিডনিতে ৫১ রানের অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। এ সফরে তাঁর দল ৫-০ ব্যবধানে নাকানি-চুবানির শিকার হয়।
২৩ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসেই শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। স্বাগতিকরা গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ১২৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০১ সালে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮২ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০১ সালে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ২৭ জুলাই, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮৬ ও ৩১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে জিম্বাবুয়ে দল ২১৬ রানে এগিয়ে যায় ও পরবর্তীতে টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়। তবে, স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
নভেম্বর, ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। গলেতে মুত্তিয়া মুরালিধরন ও তাঁর সহযোগীদের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ান। তিন নম্বর অবস্থানে নেমে ৮৮ রান তুলেন ও ব্রায়ান লারা ১৭৮ রান সংগ্রহ করলেও দলের পরাজয় রোধ করতে পারেননি। এ সিরিজে ৩১৮ রান তুলেছিলেন।
ইংল্যান্ডের মাটিতেও সফল ছিলেন। বেশ কয়েকবারই অল্পের জন্যে শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন। অবশেষে ৫০তম ইনিংসে এসে ২০০২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১৯ রান তুলে প্রথমবারের মতো তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে রিডলি জ্যাকবসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৮ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে দলের একমাত্র ইনিংসে এ সাফল্য পান। পাশাপাশি, জার্মেইন লসনের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩১০ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
পরের শতকটিও সবিশেষ তাৎপর্য্যপূর্ণ ছিল। সেন্ট জোন্সে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে শতরান করলেও ইপ্সিত জয় এনে দিতে পারেননি।
২০০৩ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। অ্যান্টিগুয়ায় ১০৫ রান তুলে দলকে দুর্লভ জয় এনে দেন। পাঁচ বছর পর অস্ট্রেলীয় আক্রমণ প্রতিহত করে একই মাঠে আরেকটি শতক হাঁকান।
১৯ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১১৮ রানে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৩-০৪ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ১১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। হার্শেল গিবসের দূর্দান্ত শতকের উপর ভর করে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৮ ও ২/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অপরাজিত চতুর্শতকের কল্যাণে খ্যাতি পাওয়া ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৪ সালে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মে, ২০০৪ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৯ ও ৪/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই বছর ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯ আগস্ট, ২০০৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্টিভ হার্মিসনের অনবদ্য অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০০৫-০৬ মৌসুমে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ৩ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২১ ও ৩১ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৭/১ ও ব্যক্তিগত ৪ রানে থাকাকালে আঘাতের কবলে পড়লে মাঠ ত্যাগ করেন। এরপর, ২১৬/৫ থাকাকালে পুণরায় মাঠে ফিরে আসেন। খেলায় তিনি ৬২ ও ৪ রান তুলে উভয় ইনিংসে বিদেয় নিয়েছিলেন। শেন বন্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৬ সালে নিজ দেশে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ২০০৬ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১ রান তুলে উভয় ইনিংসে মুনাফ প্যাটেলের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বীরেন্দ্র শেহবাগের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ২২ মার্চ, ২০০৮ তারিখে প্রভিডেন্সে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮০ ও ৭২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। চামিণ্ডা ভাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২১ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৩ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৫৭ ও ১০২ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সমর্থ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, এ সিরিজে ৩১১ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব সিরিজের পুরস্কার পান।
২০০৮ সালে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মে, ২০০৮ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৬৫ ও ১২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৭ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শিবনারায়ণ চন্দরপলের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১২ জুন, ২০০৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সায়মন ক্যাটিচের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০০৯ সালে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৪ মে, ২০০৯ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০০ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জেমস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১১ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ জুন, ২০১১ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ইশান্ত শর্মা’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। রাহুল দ্রাবিড়ের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৬৩ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৮ জুন, ২০১১ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইশান্ত শর্মা’র অসাধারণ বোলিং সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১৬ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
