২১ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মিডল সোয়ান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
অভিবাসিত যুগোস্লাভীয় দম্পতির সন্তান। ‘ক্যাট’ ডাকনামে ভূষিত সায়মন ক্যাটিজ ১.৮২ মিটার উচ্চতার অধিকারী। লেগ-সাইডে খেলতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। খেলার ধরন অনেকাংশেই শিবনারায়ণ চন্দরপলের অনুরূপ ছিল। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ডারহাম, হ্যাম্পশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দূরন্ত রাজশাহী, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব ও পার্থ স্কর্চার্সের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু থেকেই বড় অঙ্কের রান সংগ্রহের দিকে তাঁকে ধাবিত হতে দেখা যায়। নিজস্ব দ্বিতীয় মৌসুমেই ১০৩৯ রান সংগ্রহ করেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি তাঁর দিকে ধাবিত হয়। জাতীয় দলের সদস্যরূপে তাঁকে মনোনীত করা হয়।
২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৫৬ টেস্ট, ৪৫টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২১ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। ঐ খেলায় তাঁর দল জয়লাভ করেছিল।
২০০১ সালে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৬ আগস্ট, ২০০১ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ১৫ রান তুলেন। মার্ক বুচারের অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ছয় উইকেটে পরাজিত হলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এ সিরিজে তেমন সুবিধে করতে পারেননি ও দল থেকে বাদ পড়েন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নিয়ে তেমন সফল না হলেও বল হাতে বেশ সফল ছিলেন। সিডনিতে ৬/৬৫ লাভ করেন। এ সময়েই অস্ট্রেলিয়া দল বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে প্রচণ্ড শক্তিশালী দলে পরিণত হতে শুরু করে। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে ঠাঁই লাভ করা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে, ২০০৪ সালে স্টিভ ওয়াহ অবসর গ্রহণ করলে মাঝারিসারিতে ভিত্তি আনয়ণে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়।
২০০৪-০৫ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১০ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। তবে, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারী ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৬ মার্চ, ২০০৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ২৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। দলনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৮ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১২ জুন, ২০০৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৬ ও ১৫৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৮-০৯ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৩ ও ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক এমএস ধোনি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিদায়ী টেস্টে ১০২ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জেসন ক্রেজা’র অনবদ্য বোলিং সত্ত্বেও স্বাগতিক দল ১৭২ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০০৯ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
২০০৯-১০ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৭ মার্চ, ২০১০ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮৮ ও ১০৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মিচেল জনসনের তাঁর অনবদ্য বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৭৬ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১০ সালে শহীদ আফ্রিদি’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৩ জুলাই, ২০১০ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ৮০ ও ৮৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখে অস্ট্রেলিয়া দলকে ১৫০ রানে জয় এনে দেন ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে তাঁর দল এগিয়ে যায়। সালমান বাটের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, কেভিন পিটারসনের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। আইপিএলের ২০২০ সালের আসরকে ঘিরে আরসিবি দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহকারী কোচ ছিলেন।
