২৮ জুলাই, ১৯৭৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার পাকেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘স্নর্কস’ ডাকনামে ভূষিত মার্কাস নর্থ ১.৮৬ মিটার উচ্চতার অধিকারী। পার্থভিত্তিক কেন্ট স্ট্রিট সিনিয়র হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বোলিংয়ের তুলনায় ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক সফলতা পেয়েছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ডারহাম, গ্লুচেস্টারশায়ার, হ্যাম্পশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডারহাম ক্রিকেট বোর্ড, সিডনি সিক্সার্স ও পার্থ স্কর্চার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৭ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন। একই বছর ওয়াল্টার লরেন্স ট্রফি পান।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুর দিনগুলোয় মাইক হাসি’র সাথে একত্রে খেলেছিলেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে পুরা কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া যুব দলের সদস্যরূপে স্বাগতিক পাকিস্তানী একাদশের বিপক্ষে ২০০ ও ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওয়াকায় ক্রিস রজার্সের সাথে রেকর্ডসংখ্যক জুটির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দূর্ভাগ্যের কারণে বেশ কয়েকবার উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও অস্ট্রেলিয়া দলে ঠাঁই পাননি। এক পর্যায়ে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আহুত হন।
২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট, দুইটিমাত্র ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। প্রস্তুতিমূলক খেলায় বেশ ভালো করায় প্রথম একাদশে ঠাঁই পান। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফিলিপ হিউজ ও বেন হিলফেনহসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্র্যাড হাড্ডিন ও মিচেল জনসনের সাথে দূর্দান্ত জুটি গড়ে অভিষেকে টেস্ট শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি ১১৭ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১/২৯ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মিচেল জনসনের অনবদ্য অল-রাউন্ড কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ১৬২ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৯ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ৯৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
তবে, সীমিত সুযোগের কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যেতে বাধ্য হন। টি২০ ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান। ২০০৯-১০ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক কিউই দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১১২* রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিরপেক্ষ মাঠ হিসেবে লর্ডস টেস্টে অংশ নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬/৫৫ নিয়ে লর্ডস অনার্স বোর্ডে জায়গা করে নেন। প্রথম ইনিংসে শেন ওয়াটসনের ৫/৪০ লাভসহ তাঁর সাফল্যে অস্ট্রেলিয়া দল ১৫০ রান জয়লাভ করে।
২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কেভিন পিটারসনের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে পার্থ স্কর্চার্সের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
