|

জার্মেইন লসন

১৩ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে জ্যামাইকার স্পেনিশ টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘকায় ও পেশীবহুল গড়নের অধিকারী। ক্ষীপ্রগতিতে ও মনেপ্রাণে ফাস্ট বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ক্রমাগত ঘণ্টাপ্রতি ৯০ কিলোমিটার গতিবেগে ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে বোলিং করতেন। বয়সভিত্তিক দলে অংশ নিয়েছেন। ২০০০ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। অগ্নিগোলকসম বোলিং করে ৫ ওভারে ইংরেজদের ব্যাটিং নড়বড়ে করে দেন। তবে, বলের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারতেন না।

২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে খেলেছেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। সনথ জয়সুরিয়া’র ব্যাটিং তোপে পড়েন।

২০০২-০৩ মৌসুমে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২০ বছর বয়সে ১৭ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। গারেথ ব্রিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৬৩ ও ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, হরভজন সিংয়ের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে হ্যাট্রিক লাভ করেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে গতির ঝড় তুলে ভারতীয় ব্যাটিং বিভাগ তুনোধুনো করে দেন। বিজয়াবাদের ওডিআইয়ে চার উইকেট তুলে নেন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন। পরের বছর ফাস্ট বোলারদের বধ্যভূমি অ্যান্টিগুয়ায় অস্ট্রেলীয়দের হিমশিম খাইয়ে পাঁচ-উইকেট দখল করেন। তবে, হাড়ে চিড় ধরা ও বোলিং ভঙ্গীমায় বৈধতার প্রশ্নে নিরাশ হওয়াসহ দলে অন্তর্ভুক্তির নীতিমালা তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২০০২-০৩ মৌসুমে রিডলি জ্যাকবসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৮ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে তিন রান খরচায় ছয় উইকেট নিয়েছিলেন। অদ্যাবধি টেস্টের এক ইনিংসে ছয় উইকেট লাভে এটিই সর্বাপেক্ষা কম রান খরচের ঘটনারূপে চিত্রিত হয়ে পড়ে। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩১০ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৪ সালে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মে, ২০০৪ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিকুর রহমানের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৬ ও ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই বছর ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯ আগস্ট, ২০০৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩* ও ৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্টিভ হার্মিসনের অনবদ্য অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০০৫-০৬ মৌসুমে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ৩ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৭৩ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর থেকে জ্যামাইকা ও পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০০৮ সালে খেলার জগৎ থেকে দূরে সড়ে যান।

টেস্টগুলো থেকে ৫১ উইকেট দখল করেছিলেন। এক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইস্ট নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তিন পুত্র সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট