১৫ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে মাতালে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বলকে সুইং করানোয় দক্ষ ছিলেন। ইন-সুইঙ্গার ও ব্যাটসম্যানকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেই অধিকাংশ উইকেট পেয়েছেন। প্রায়শঃই দলের পেস আক্রমণ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। লাসিথ মালিঙ্গা’র টেস্টে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা না থাকায় শীর্ষ পর্যায়ে গড়পড়তা সময় অতিবাহিত করতে হয়।
২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে মুরস স্পোর্টস ক্লাব, ওয়েয়াম্বা এবং তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মুরস এসসি’র পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ২০০২ সাল থেকে ক্লাবটিতে খেলছেন। ঐ বছরই দলের শিরোপা বিজয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে ১৩ খেলায় অংশ নিয়ে ২৪.১৪ গড়ে ৩৪ উইকেট দখল করেন। এরফলে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি গোচরীভূত হন। পরের মৌসুমে ব্যক্তিগত সেরা সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে একটি খেলা থেকে নয় উইকেট দখল করেছিলেন ও দলের দশ উইকেটের বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন।
বেশ দেরীতে ক্রিকেট খেলায় প্রবেশ করেছেন। ১৭ বছর বয়সে মাতালেভিত্তিক সেন্ট টমাস কলেজে খেলা শিখতে শুরু করেন। তবে, প্রাদেশিক খেলাগুলোয় দ্রুততার সাথে উত্তরণ ঘটান। কলম্বোয় চলে আসার পর ২০০০ সালে সাবেক শ্রীলঙ্কান ফাস্ট বোলার রুমেশ রত্নায়েকে’র পরিচালনায় শ্রীলঙ্কার পেস একাডেমির অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলিং কোচ ড্যারিল ফস্টারের ১৫-সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় তাঁকে রাখা হয়।
এর পরপরই চেন্নাইভিত্তিক এমআরএফ পেস একাডেমিতে তাঁকে আরও দক্ষতা আনয়ণকল্পে প্রেরণ করা হয়। শ্রীলঙ্কা একাডেমি দলের পক্ষে শারজাহ গমন করেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সাত উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে, শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
তবে, জাতীয় পর্যায়ের খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করলে ঐ সময়ে পায়ের গোড়ালীতে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ছিলেন। এরফলে, অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। পৌনে দুই বছর বাদে পুণরায় খেলার জগতে ফিরে আসেন। বেশ সাহসীকতার সাথে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্রমাগত সাফল্যের প্রেক্ষিতে পুণরায় জাতীয় দলের সদস্য হন।
২০০৭ থেকে ২০১৪ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট, ১০টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সূচনা পর্বটি দূর্দান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছিল তাঁর। উভয় ইনিংসে দুইটি করে উইকেট লাভ করেন। ২/১৭ ও ২/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ ও একটি রান আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
২০১১ সালে খেলার মানের যথেষ্ট উত্তরণ ঘটান। এরপর, ঐ বছরের শেষদিকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে সচেষ্ট হন। ডারবানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরফলে, শ্রীলঙ্কা দল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়।
২০১১-১২ মৌসুমে তিলকরত্নে দিলশানের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৮৭। খেলায় তিনি ৫/৫২ ও ০/৩৩ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রঙ্গনা হেরাথের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২০৮ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর থেকে বিভিন্ন ধরনের আঘাতে কাবু হলে স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে ব্যাঘাত ঘটায়। তাঁর অনুপস্থিতির ফলে অন্যান্যদের পেস আক্রমণে নিয়ে আসা হয়। ২২ মে, ২০১৩ তারিখে আঘাতের কারণে দিলহারা লোকুহেত্তিগেকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
২ জুন, ২০১৪ তারিখে ঘোষিত টেস্ট দলে লকমলকে বাইরে রেখে তাঁকে পুণরায় খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২০১৪ সালে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৭* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬৫ ও ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রঙ্গনা হেরাথের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৩০ জুলাই, ২০১৫ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন।
