| |

মিন প্যাটেল

৭ জুলাই, ১৯৭০ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনায় সচেষ্ট ছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ডায়মন্ড’ ডাকনামে ভূষিত মিন প্যাটেল ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। নিখুঁততার সাথে বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ডার্টফোর্ড জিএস, ম্যানচেস্টার পলিটেকনিকে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে দূর্দান্ত খেললে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন।

১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুইটি টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরফলে, এগারোজন এশীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। উভয় টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৯৬ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যালান মুলালিরনি ইরানী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৪ জুলাই, ১৯৯৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। সব মিলিয়ে ১৮০ রান খরচায় একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১০১ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ২৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও প্রথম টেস্টে পরাজয়ের সুবাদে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৯৭ সালে শারীরিক প্রশিক্ষণকালীন আঘাতপ্রাপ্তি ও ক্লাবের খেলায় বাজী ধরার অপরাধে এক খেলায় অংশ নেয়ার পরপরই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। তারপর থেকে ক্রমাগত ইংরেজ ক্রিকেটে অন্যতম সফলতম স্পিনাররূপে গড়ে তুলতে থাকেন। এমনকি, ২০০৫ সালের শেষদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে আঘাতের কবলে পড়া অ্যাশলে জাইলসের পরিবর্তে তাঁকে কিংবা গ্যারি কিডিকে স্থলাভিষিক্ত করার চিন্তাভাবনা চলতে থাকে।

কঁনুইয়ের আঘাতের কবলে পড়েন। অতঃপর, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরফলে, কেন্টের সাথে ১৯ বছরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটান। ইংরেজ উইকেট থেকে পাঁচ শতাধিক প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে ২২.৮৬ গড়ে ৯০ উইকেট নিয়ে দেশের শীর্ষ প্রথম-শ্রেণীর উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। তবে, ক্যান্টারবারির উইকেট কেবলমাত্র তাঁর বামহাতি স্পিন ও কার্ল হুপারের অফ-ব্রেকের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

অবসর গ্রহণের পরও কেন্টের সাথে শক্ত যোগাযোগ রাখেন। এক পর্যায়ে স্পিন বোলিং কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পাশাপাশি, একাডেমি ও কাউন্টি দলের সাথে একযোগে কাজ করছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড ও ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বোলারের সহায়তায় স্পিন কোচ হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তৃতীয় স্তরের কোচ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট