২৭ জুলাই, ১৯৮৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হাডার্সফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ব্যাটিং করতেন। ২০১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘অ্যাজি’ ডাকনামে ভূষিত আজমল শাহজাদ ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। হাডার্সফিল্ডে জন্মগ্রহণ করলেও ব্রাডফোর্ডে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। উডহাউজ গ্রোভ স্কুলে অধ্যয়ন শেষে ব্রাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ফাস্ট বোলার হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা প্রদর্শন করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার, সাসেক্স, নটিংহ্যামশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
২০১২ মৌসুম শেষে নটসের পক্ষে খেলার জন্যে তিন বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এরপূর্বে এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম ইয়র্কশায়ারীয় ক্রিকেটার হিসেবে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ৬২৪তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন। ট্রেন্ট ব্রিজে আসার পর থেকেই তাঁর কাছ থেকে বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত কিছু সাফল্য বাদে আঘাত ও পিচে তেমন সফলতা না পাবার ফলে ২০১৪ মৌসুম শেষে তাঁকে এক বছর পূর্বেই অব্যহতি দেয়া হয়। নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে ২১টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ৪০.৫৮ গড়ে ৪৬ উইকেট পেয়েছিলেন। এরপর, সাসেক্সে যোগ দেন। এক পর্যায়ে লিচেস্টারশায়ারে খেলার পর ২০১৭ সালে খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানেন।
২০১০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে একটিমাত্র টেস্ট, ১১টি ওডিআই ও ৩টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিলেও পর্যাপ্ত সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ২০১০ সালে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৪ জুন, ২০১০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৫ ও ১/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইয়ান বেলের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ৩৪.৯৭ গড়ে ২৪৯ উইকেট দখল করেছেন। তন্মধ্যে, চারবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। শুরুতে ইয়র্কভিত্তিক অ্যাম্পলফোর্থ কলেজে প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এমসিসির ইয়ং ক্রিকেটার্সের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্তি পান। অক্টোবর, ২০১৮ সালে স্টিভ কার্বি’র চলে যাবার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০২১ সালকে ঘিরে ডার্বিশায়ারের বোলিং কোচ হিসেবে যোগ দেন।
