৩০ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে মাতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘ ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। মাতারাভিত্তিক রাহুলা কলেজে অধ্যয়ন করতেন। অফ-স্পিন বোলিং করতেন। বলকে শূন্যে ভাসিয়ে প্রতিপক্ষের অপ্রস্তুত ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বাউন্স ছুড়তেন। ২০০৪ থেকে ২০১৯ সময়কালে ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, কন্দুরাতা, মাতারা স্পোর্টস ক্লাব, নন্দেস্ক্রিপ্ট ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, কন্দুরাতা ম্যারুন্স ও রুহুনা’র পক্ষে খেলেছেন। ২০০৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। কয়েক মৌসুম সাধারণমানের খেলা প্রদর্শনের পর ২০০৮-০৯ মৌসুমে দূর্দান্ত খেলেন। এরফলে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০০৯ থেকে ২০১৬ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্ট, ৩১টি ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
এর ছয় মাস পর একই দলের বিপক্ষে ফিরতি সফরে টেস্টে প্রথম খেলেন। ২০১০ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ২০১০ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/২২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কুমার সাঙ্গাকারা’র অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৩ আগস্ট, ২০১০ তারিখে কলম্বোয় সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৮ ও ৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ৪/৮০ ও ৫/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ভিভিএস লক্ষ্মণের অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
১৮ আগস্ট, ২০১০ তারিখে ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার খেলায় নো-বলের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরফলে, এক খেলায় অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। এছাড়াও, তিলকরত্নে দিলশানের সাথে তাঁকেও ম্যাচ ফি’র সমূদয় লাভ করা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
২০১১ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় মূল দলে খেলার সুযোগ পাননি। তবে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ আঘাত পেলে ক্রিকেটের বড় ধরনের আসরে যুক্ত হতে পেরেছিলেন। চূড়ান্ত খেলায় ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ২০১১ সালের আইপিএল আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের প্রতিনিধিত্ব করে দলকে শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন।
২০২১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৮ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৯ ও ২/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
কিছু সময় দলের বাইরে অবস্থানের পর নভেম্বর, ২০১৪ সালে পুণরায় জাতীয় দলে ফিরে আসেন। ভারতের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে অংশ নেন। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নেয়ার সুযোগ পান।
এরপর থেকে ক্রিকেট জগৎ থেকে দূরে সরে যান। পরবর্তীতে, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করতে থাকেন। মেলবোর্নভিত্তিক ট্রান্সডেভ প্রতিষ্ঠানে বাসচালক হিসেবে নিযুক্তি পান।
