জ্যাক কাউয়ি

৩০ মার্চ, ১৯১২ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে, নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পিচে বলকে বাঁকা খাওয়াতে পারতেন। পনেরো কদম দৌঁড়ে ক্ষীপ্রতা সহকারে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অকল্যান্ডের ডেভনপোর্টে জন্মগ্রহণ করলেও ওয়েলিংটনে চলে যান। ১৯৩২-৩৩ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৩৭ থেকে ১৯৪৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ড অভিমুখে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে গমন করেন। ২৬ জুন, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইংল্যান্ডের জিম পার্কস ও লেন হাটন এবং নিউজিল্যান্ডের ওয়াল্টার হ্যাডলি, সনি মলোনি, মার্ভ ওয়ালেস, এরিক টিন্ডিল ও মার্টিন ডনেলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে লেন হাটনকে ০ ও ১ রানে বিদেয় করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৪ জুলাই, ১৯৩৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ৪/১১৮। এরপর, ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এ পর্যায়ে এফআর ব্রাউনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ওয়ালি হ্যামন্ডকে শূন্য রানে বিদেয় করেছিলেন। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ৪/৭৩। খেলায় তিনি ৪/৭৩ ও ৬/৭৬ লাভ করেন। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৩০ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

ডাবলিনে ছয়জন আইরিশ ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে ফেরৎ পাঠান। ৮-৫-৩-৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রায় একাকী বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এ সফরে নিউজিল্যান্ড দলের সেরা বোলারে পরিণত হন। ১৯.৯৫ গড়ে ১১৪ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ক্রিকেটের বাইবেল নামে পরিচিত উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাকের ১৯৩৮ সালের সংস্করণে উইলফ্রিড ব্রুকস তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেন যে, ‘যদি তিনি অস্ট্রেলীয় হতেন, তাহলে তিনি বয়সের বিস্ময় পরিভাষায় ভূষিত হতেন।’

যুদ্ধ তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিরাট প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। খেলার জগতে পুণরায় ফিরে আসলেও তাঁর পেস ধীরলয়ের ছিল। তবে, এর প্রভাব আরও বেড়ে যায়। ওয়েলিংটনে অস্ট্রেলীয়দের বিপক্ষে এক চোট নেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো খেলেন। বিল ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। কিউইদের বিপক্ষে টেস্টের ইতিহাসে এটিই অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী খেলা ছিল। ২৯ মার্চ, ১৯৪৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ৬/৬৭। বল হাতে নিয়ে পতনকৃত আট উইকেটের মধ্যে ৬/৪০ পান। তন্মধ্যে, সিড বার্নস, কিথ মিলার ও লিন্ডসের হ্যাসেটের উইকেট ছিল। খেলায় তিনি ৬/৪০ লাভ করেন। এছাড়াও, ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলাকালীন দিনের প্রথম বলে তিনি ডন ব্র্যাডম্যানকে ১১ রানে কাট আউটে বিদেয় করেন। চার-দিন নিয়ে গড়া ঐ টেস্টটি দুই দিনে শেষ হয়ে যায়। স্বাগতিক দল ৪২ ও ৫৪ রানে গুটিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের কাছে ইনিংস ও ১০৩ রানে পরাভূত হয়।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ মার্চ, ১৯৪৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৬/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

১৯৪৯ সালে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। ১৩ আগস্ট, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ৪/১২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ২১.৫৩ গড়ে ৪৫ উইকেট দখল করেছিলেন। ইনিংসে তিনবার ছয়-উইকেট লাভ করেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। শীতকালে ফুটবল খেলায় অংশ নিতেন। ১৪ বছর এনজেডএফএ কাউন্সিলে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৪ সময়কালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ধাবিত হন। ১৯৫০-এর দশকে তিনটি টেস্ট পরিচালনা করেছিলেন। ৪৭ বছর বীমা পেশায় যুক্ত ছিলেন। ওবিই পদবী ধারন করেন। তাঁর মধ্যনাম ছিল না ও প্রায়শঃই জে. এ. নামে পরিচিতি লাভ করেন। ৩ জুন, ১৯৯৪ তারিখে ওয়েলিংটনের লোয়ার হাট এলাকায় ৮২ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। নাইরি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। জেনেট ও স্যু নাম্নী দুই কন্যা ও ছয় নাতি ছিল।