২৮ আগস্ট, ১৯১৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার জিলং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১.৬৯ মিটার উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৩৮ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৪৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, অ্যাশেজ সিরিজের ২৪ টেস্ট খেলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৮.৩৪ গড়ে ১৫৭২ রান তুলেন। ভারতের বিপক্ষে বেশ সফল ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলকে মোট ১০ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মাত্র পাঁচ ফুটের অধিক উচ্চতা নিয়ে সর্বাপেক্ষা খর্বকায় অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক হিসেবে চিত্রিত হন। চারটিতে জয়, দুইটিতে পরাজয় ও চার টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।
১৯৩৮ সালে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বেন বার্নেটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৪০ তারিখে অস্ট্রেলিয়ান ইম্পেরিয়াল ফোর্সে তালিকাভূক্ত হন। মধ্যপ্রাচ্য, পাপুয়া, নিউগিনিতে অবস্থান করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে মূল্যবান আট বছর নষ্ট হয়। তবে, ১৯৪৫ সালের পর অ্যাশেজে আরও চারটি শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। শতবার্ষিকী টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড দলের সাবেক ও বর্তমান অধিনায়কদের সাথে মাঠে নামেন। রবার্ট মেনজিসের ধারনা ছিল তিনি দারুণ রাজনীতিবিদ হতে পারতেন। তবে, ১৯৪৯ সালে অধিনায়কের প্রশ্নে ছোটখাটো নির্বাচনে তিনি মাত্র এক ভোট পেয়েছিলেন।
১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বিল ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৯ মার্চ, ১৯৪৬ তারিখে ওয়েলিংটনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটিতে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৩০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। চার দিন নিয়ে গড়া ঐ টেস্টটি দুই দিনে শেষ হয়ে যায়। ইনিংস ও ১৩৩ রানে জয়লাভ করে তাঁর দল।
১৯৪৯-৫০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১১২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৫ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯৫০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৭৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৫৯ রানে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ৬ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে সনি রামাদিনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৫৩ সালে অজি দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থেকে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ আগস্ট, ১৯৫৩ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৫৩ ও ১০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা রূপান্তরে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেন। টেস্টে ১১টি অর্ধ-শতক ও ১০টি শতরানের ইনিংস খেলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৭৫টি অর্ধ-শতক ও ৫৯টি শতক হাঁকিয়েছিলেন।
১৯৪৯ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে এমবিই উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর অবসর গ্রহণকে কেন্দ্র করে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আর্থিক সহযোগিতার খেলার জন্যে মনোনীত হন। প্রধানমন্ত্রী স্যার রবার্ট মেনজিস তাঁকে £৫,৫০৩ পাউন্ড-স্টার্লিং অর্থের চেক প্রদান করেন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়া হল অব ফেমে ঠাঁই পান। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। তাঁর সম্মানার্থে মেলবোর্নের আলবাট হলের নাম পরিবর্তন করে দ্য লিন্ডসে হ্যাসেট ওভাল রাখা হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর এবিসি ধারাভাষ্যকার হিসেবে প্রায় ২৫ বছর কাজ করেছেন। অবসর সময়ে মৎস্য শিকার ও গল্ফ খেলতেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৯ মে, ১৯৪২ তারিখে জিলংয়ের সেন্ট মেরিজ ক্যাথলিক চার্চে টেসি আইরিন ডেভিস নাম্নী এক করণীকের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ দম্পতির দুই কন্যা ছিল। ১৬ জুন, ১৯৯৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেটহ্যাভেন এলাকায় ৭৯ বছর ২৯২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
