১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৪ তারিখে কর্ণাটকের দেবানাগেরে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কোচি তুস্কার্স কেরালা, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে পক্ষে খেলেছেন। ৭ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে কলকাতায় বাংলা বনাম কর্ণাটকের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
কর্ণাটকের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ও অধিনায়ক। নিখুঁতভাব ও নিশানা বরাবর বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে বোলিং করতেন। পেস সহযোগে মাঝে-মধ্যে লেগ কাটার মারতেন। নতুন বলে সুইং আনতে পারলেও ঘরোয়া পর্যায়ে পেসে দূর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। ২০১৩-১৪ মৌসুমে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। চূড়ান্ত খেলায় ৫/৩৪ ও ২/৪৩ বোলিং করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এরফলে, রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে শতরানসহ পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন।
দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। জীবিকার তাগিদে তাঁর পিতা অটোরিক্সা চালাতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর প্রতিভার বিচ্ছুরণ লক্ষ্য করা যায়। তাঁর প্রথম কোচ এলএম প্রকাশ নিজ শহরে তাঁর প্রতিভা চিহ্নিত করেন ও প্রয়োজনীয় ক্রিকেট সরঞ্জাম প্রদান করেছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্য না থাকলেও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন গঠনে পরিপূর্ণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। দেবানাগেরের এআরজি কলেজ অব আর্টস এন্ড কমার্স থেকে বিকম ডিগ্রী লাভ করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ ছিলেন।
২০১০ থেকে ২০১৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ৩১টি ওডিআই ও নয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১১ মে, ২০১০ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
দূর্ভাগ্যজনকভাবে টেস্ট ক্রিকেটে তেমন সফলতা আনতে পারেননি। ২০১২-১৩ মৌসুমে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। পার্থে একমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৩ জানুয়ারি, ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। পিচে তাঁর বোলিংয়ে জবুথবু ভাব পরিলক্ষিত হয়। ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটিংয়ে নাকানিচুবানি খান। ১৩ ওভারে ৭৩ রান খরচ করেন। তন্মধ্যে, ডেভিড ওয়ার্নারের বিপক্ষে ৬ ওভার বোলিং করে ৪৩ রান দেন। গালি অঞ্চলে মাইকেল হাসিকে বিদেয় করে কিছুটা স্বান্তনা পান। ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৩৭ রানে জয় পেয়ে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
সীমিত-ওভারের ক্রিকেটেও তেমন ভালো ফলাফল করতে পারেননি। ওডিআই ও টি২০আইয়ে যথাক্রমে রান খরচ করেছেন করেছেন ৬ ও ৮। নিজ শহরে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সফররত অজি দলের বিপক্ষে ৯ ওভার থেকে ১০২ রান খরচ করে ফেলেন। এরপর থেকে তাঁকে আর ভারত দলের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি।
ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ভিন্নতর চিত্র দেখা যায়। মিডিয়াম-পেস বোলিং করে ২৫-এর কম গড়ে চার শতাধিক প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছেন। কর্ণাটকের পক্ষে আড়াই হাজারের অধিক রান পেয়েছেন। তবে, অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। কর্ণাটক ও কর্ণাটক প্রিমিয়ার লীগে হাবলি টাইগার্সকে পরিচালনা করেন। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফিতে কর্ণাটকের শিরোপা বিজয়সহ ইরানী কাপে দলকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। উভয় মৌসুমে হ্যাট্রিক লাভসহ বিজয় হাজারে ট্রফির শিরোপাও করায়ত্ত্ব করেন। সার্ভিসেসের জোগিন্দর রাও ও কর্ণাটকের অনিল কুম্বলে’র সাথে নিজেকে শামিল করেন। ২০১৮ সালের আইপিএলের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স কর্তৃপক্ষ তাঁকে ₹১ কোটি রূপীর বিনিময়ে দলে অন্তর্ভুক্ত করে।
