|

স্কট মুলার

১১  জুলাই, ১৯৭১ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের হার্স্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯ বছর বয়সে ১৯৯০-৯১ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। তবে, খুব শীঘ্রই খেলায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ১৯৯৬-৯৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে খেলেননি। ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় জড়িয়ে পড়েন। বুলসের শেফিল্ড শীল্ডের চূড়ান্ত খেলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়াসহ অল্প কিছুদিন পরই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

তবে, কুইন্সল্যান্ডের কোচ জন বুকাননের অনুপ্রেরণায় খেলার জগতে ফিরে আসেন। হতাশার পাশাপাশি আঘাত থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দীর্ঘসময়ের জন্যে বাইরে অবস্থান থেকে দূরে সড়ে গিয়ে পরবর্তী দুই মৌসুমের প্রত্যেকটিতে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে দূর্দান্ত খেললে বিস্ময়করভাবে তাঁকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেসন গিলেস্পি’র আঘাতের কারণে সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ সালে তাঁকে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে দলে রাখা হয়।

৩০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১০২ উইকেট পান। তবে, অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তানের মধ্যকার হোবার্ট টেস্ট চলাকালীন শেন ওয়ার্ন তাঁকে উদ্দেশ্য করে ধারাভাষ্যে ‘বল করতে পারেন না, বল ছুড়তে পারেন না’ মন্তব্যটির কারণে স্মরণীয় করে রেখেছেন। এ মন্তব্যটি তাঁর দুই টেস্ট নিয়ে গড়া খেলোয়াড়ী জীবনের সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যায়।

১৯৯৯ সালের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৭২ ও ১/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৬৮ ও ১/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরের ৪ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট থেকে সাত উইকেট দখল করেন। শেন ওয়ার্নের সাথে দশম উইকেট জুটিতে ৮৬ রানের জুটি দাঁড় করিয়েছিলেন। চার মাস পরই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জগৎ থেকে বিদেয় নেন। পূর্বকার দুই বছর পায়ের আঘাতের কবলে পড়েছিলেন। শেষ মৌসুমে কুইন্সল্যান্ডের এ-গ্রেড প্রিমিয়ারশীপে গোল্ড কোস্টের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮ গড়ে ৩৪ উইকেট দখল করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত।

সম্পৃক্ত পোস্ট