৯ আগস্ট, ১৮৯৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের অ্যাবোটাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
শৈশবকাল ভারতবর্ষে অতিবাহিত করলেও বার্কশায়ারের ওয়েলিংটন কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। ২০-এর মাঝামাঝি বয়স পর্যন্ত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। এরপর, নিউজিল্যান্ডে চলে যান। পরবর্তী বছরগুলোয় নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটের উপযোগী করে তুলেন। নিয়মিতভাবে উইকেট পেতেন, নিরন্তর নিখুঁতভাব বজায় রাখতেন। দীর্ঘকায় গড়ন, সুদর্শন, ঘন কালো চুল নিয়ে সহজাত ভঙ্গীমায় সিম বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। বড় ধরনের শট খেলতে পটু ছিলেন ও ক্লান্তিহীন অবস্থান বোলিং করতেন। এছাড়াও, তাঁর ফিল্ডিং বিশ্ব মানসম্পন্ন ছিল।
১০২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ওয়েলিংটনের পক্ষে প্রথম চার খেলা থেকে মাত্র তিন উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, দুই বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে নিউজিল্যান্ডের সম্ভবতঃ সেরা অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
ওয়েলিংটনের স্থায়ী অধিবাসী হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০০০ রান ও ২০০ উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন। ওতাগোর বিপক্ষে মধ্যাহ্নভোজনের বিরতির পূর্বেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতক হাঁকান। নিজের প্রতিশ্রুতিশীলতা প্রদর্শনে সচেষ্ট ছিলেন। কয়েক দশক পর স্যার রিচার্ড হ্যাডলি’র উত্থানের পূর্বে নিউজিল্যান্ডের সেরা অল-রাউন্ডারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন দীর্ঘতর হয়নি।
১৯২৭ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হয়। তবে, শীর্ষ পর্যায়ে বাদ-বাকী সকলের ১০ বছরের অধিক অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। ১৯৪৫ সালে লর্ডসে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। নিউজিল্যান্ডীয় একাদশ বনাম লর্ডস একাদশের খেলায় ৪০ ওভার বোলিং করে ৬/৬৯ পান। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে ওয়েলিংটনের সদস্যরূপে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৫২ ওভারে ৮/১০৫ লাভ করেন।
১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের সূচনালগ্নের অন্যতম ক্রিকেটার ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেককালীন ৩০-এর মাঝামাঝি বয়স ছিল তাঁর। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। অ্যাল্বি রবার্টস, স্টুই ডেম্পস্টার, জর্জ ডিকিনসন, হেনরি ফোলি, ম্যাট হেন্ডারসন, কার্লি পেজ, টম লরি ও বিল মেরিটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২/২৯ পান। মরিস অলমের পাঁচ বল থেকে চার উইকেট লাভের অন্যতম ছিলেন। এছাড়াও, খেলায় ০ ও ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। এ টেস্টে পাঁচ উইকেট পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ফ্রেড বারাটকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ২/২৯। খেলায় তিনি ৪/৮০ ও ১/২২ লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। অকল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট বৃষ্টিবিঘ্নিত হয় ও তিনি বাদ পড়েন।
১৯৩১-৩২ মৌসুমে ওতাগোয় চলে যান। সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশ নেন। তন্মধ্যে, ক্রাইস্টচার্চে ৬৪ ও ওয়েলিংটনে ৫৩ রান তুলেন। তবে, উভয় খেলাতেই তাঁর দল পরাজয়বরণ করে। এক বছর পর ওয়াল্টার হ্যামন্ড ও তাঁর ইংল্যান্ড দল নিউজিল্যান্ড সফরে আসে। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ক্রাইস্টচার্চে ওয়াল্টার হ্যামন্ডকে ২২৭ রানে বিদেয় করেন।
একই সফরের ৩১ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে ওয়াল্টার হ্যামন্ড ৩৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও তিনি ৫৯ ওভারে ২/১২৬ পান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যায়ে অ্যামিস ও অ্যালেন তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ‘ওয়ালি হ্যামন্ডের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। তবে, তাঁর আক্রমণাত্মক ধাঁচের ব্যাটিংয়ে ক্রমশঃ উত্তরণ ঘটেছিল। ওতাগো বনাম ক্যান্টারবারির মধ্যকার খেলায় দুইবার মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বেই শতক হাঁকিয়েছিলেন।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কা দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। পার্থে বসবাসরত অবস্থায় নিউজিল্যান্ড দল খেলতে আসলে তিনি দলের সাথে সময় কাটান ও অনুশীলনীতে বোলিং করেন। ভবঘুরে জীবনের এক পর্যায়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন মাঝে-মধ্যে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় অবসর গ্রহণ করেন।
১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সাউথ পার্থে ৮৫ বছর ৪১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। আর. টি. ব্রিটেনডেন তাঁকে হার্বার্ট সাটক্লিফের সৌজন্যতা ও কিথ মিলারের নান্দনিকতার সমন্বয়ে গড়া খেলোয়াড় হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
