| | |

চার্লি পার্কার

১৪ অক্টোবর, ১৮৮২ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রেস্টবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

জনৈক শ্রমিকের সন্তান ছিলেন। ছয় ফুটের অধিক উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ধীরলয়ে যাত্রা শুরু করেন। অতঃপর, অনেকগুলো বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অন্যতম সেরা স্লো লেফট-আর্ম বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯০৩ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ডব্লিউজি গ্রেসের সুপারিশক্রমে গ্লুচেস্টারশায়ারে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, ১৯০৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত দুইটির বেশী প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে পারেননি। এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্ব পর্যন্ত জর্জ ডেনেটের সাফল্যে ম্লান হয়ে পড়তেন।

যুদ্ধে পর ক্রিকেট খেলা শুরু হলে সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক পর্যায়ে কাউন্টির প্রধান বোলারে পরিণত হন। ঐ মৌসুম থেকে ১৯৩৫ সালের শেষ মৌসুম পর্যন্ত প্রত্যেক মৌসুমেই শতাধিক উইকেট পেয়েছেন। তন্মধ্যে, পাঁচবার ২০০ উইকেট লাভ করেছিলেন।

১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২১ সালে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ইতোমধ্যে সিরিজ খোঁয়ানোর পর তাঁকে খেলানো হয়। ২৩ জুলাই, ১৯২১ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। চার্লি হলোজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বৃষ্টির কারণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ২৮-১৬-৩২-২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাসত্ত্বেও, আর তাঁকে দলে রাখা হয়নি।

লিওনেল টেনিসনের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করেন। তবে, তাঁর ফিঙ্গার-স্পিন অস্ট্রেলীয় উইকেটে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর, আর তিনি ঐ দেশে যাননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও কাউন্টি ক্রিকেটে অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ের পরিচিতি লাভ করেন। ৬৩৫টি খেলায় অংশ নিয়ে ১৯.৪৬ গড়ে ৩২৭৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেছেন। এরফলে, রোডস ও ফ্রিম্যানের পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বেকার নয় মৌসুম থেকে ৪৬৭ উইকেট পান। যুদ্ধের পর থেকে আরও ২৮১১ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৫ সালে ২৬.০৪ গড়ে ১০৪ উইকেট লাভ করে ৫২ বছর বয়সে এসে অবসর গ্রহণ করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২৫টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও, ক্রানলেই স্কুলে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিকেটের বাইরে ওয়েস্ট কান্ট্রিতে গল্ফে অনুরক্ত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১১ জুলাই, ১৯৫৯ তারিখে সারের ক্রেনলেই এলাকায় ৭৬ বছর ২৭০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট