|

লক্ষ্মণ সন্দাকান

১০ জুন, ১৯৯১ তারিখে রাগামা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। শীর্ণকায় বামহাতি রিস্ট স্পিনার। দ্রুততার সাথে বলকে উভয় দিকেই বাঁক খাওয়াতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন ও প্যাডে আঘাতে সফলতা পান। কান্দানাভিত্তিক ডি মাজেনোদ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব ও সারাসেন্স স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গল গ্ল্যাডিয়েটর্স ও সাউদান এক্সপ্রেসের পক্ষে খেলেছেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্রমাগত সাফল্যের প্রেক্ষিতে স্পিনারদের উর্বরক্ষেত্ররূপে বিবেচিত শ্রীলঙ্কা দলে স্থান লাভে স্বীয় সক্ষমতা দেখান। ২০১২ সালে সারাসেন্স স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে বর্ণহীন প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে কলম্বোর বার্গারে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ ছিল বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাব। তবে, পরের মৌসুমে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবে স্থানান্তরে উইকেট সংগ্রহের পাল্লা দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

২০১৩-১৪ মৌসুমের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উইকেট সংগ্রহকারীদের তালিকায় শীর্ষে পৌঁছেন। ১৯.১৪ গড়ে ৫৪ উইকেট দখল করেছিলেন। তাঁর এ প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। তবে, ২০১৪ সালের শেষদিকে শ্রীলঙ্কার ওডিআই দলের সদস্যরূপে রাখা হলেও নিজ দেশে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে কোন খেলায় তাঁকে খেলানো হয়নি।

পরের মৌসুমে আবারও চমৎকার খেলেন। ২৪.২৮ গড়ে ৪৫ উইকেট দখল করেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমের প্রিমিয়ার লীগ টুর্নামেন্টে তিন মৌসুমের মধ্যে দ্বিতীয়বার উইকেট শিকারীদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী ইংল্যান্ড গমনার্থে শ্রীলঙ্কার ‘এ’ দলের সদস্যরূপে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করে। ঐ সফরে লিস্ট-এ খেলায় ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ৫/৪০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কার শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বোলারের আঘাতের কারণে তাঁকে দ্রুত দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়।

২০১৬ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬ সালে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ২০১৬ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে নেমেই ঝড় তুলেন। অজি ব্যাটসম্যানদেরকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেন। অভিষেক টেস্টে সাত উইকেট দখল করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। ১৯* ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৫৮ ও ৩/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৬ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২১ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০১৭ সালে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/১৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১০ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, হার্দিক পাণ্ড্য’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ১৭১ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৩ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে কলম্বোয় সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/৯৫ ও ২/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জনি বেয়ারস্টো’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ৪২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট