২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, কন্দুরাতা ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাদার্স ইউনিয়নের পক্ষে খেলেছেন। ধৈর্য্যশীল ও খাঁটিমানের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করতেন। অরবিন্দ ডি সিলভা ও হাসান তিলকরত্নে’র অবসর গ্রহণের পর মাঝারিসারিতে খেলার সুযোগ পান। টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে চমৎকার সূচনা করেছিলেন।
১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ৮১ টেস্ট ও ৫৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ নভেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তেমন বর্ণাঢ্যময় ছিল না। শারজায় ভারতের বিপক্ষে ঐ খেলায় ব্যাট হাতে নেয়ার সুযোগ পাননি। ওডিআই দলে স্থান পাকাপোক্ত করতে ব্যর্থ হন। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে মাত্র আটটি খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন।
২০০১ সালে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতের মুখোমুখি হন। ২৯ আগস্ট, ২০০১ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ডানহাতে ব্যাটিং করে দলের একমাত্র ইনিংসে ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতের বিপক্ষে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। এভাবেই সিংহলীজ এসসি গ্রাউন্ডের সাথে তাঁর চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর, একই মাঠে পরবর্তী দুই টেস্টেও শতক হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও, ০/১২ ও ১/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৭ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২১ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসি’র বাইরে বিদেশের মাটিতে প্রথম শতক হাঁকান। ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০০ রান তুলে নিজস্ব চতুর্থ শতরানের ইনিংস খেলেন। এরফলে, নিম্নমূখী রানের খেলায় শ্রীলঙ্কা দল ২০১ রানে জয়লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করে।
২০০৪-০৫ মৌসুমে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১১ এপ্রিল, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৭৩ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ল্যু ভিনসেন্টের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
তবে, খেলায় ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি। দলে সর্বদাই আসা-যাবার পালায় ছিলেন। মে, ২০০৬ সালে দল থেকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে বাদ পড়েন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে মন্দ সময় অতিবাহিত করেন, রান খরায় ভুগেন। এ পর্যায়ে সর্বশেষ ১৪ ইনিংস থেকে মাত্র চারবার দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।
শেষ টেস্ট খেলার আঠারো মাস পর আরও আক্রমণাত্মক পন্থা অবলম্বনে অগ্রসর হন ও রানের ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে দলে ফিরে আসেন। ৮ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে দ্বিতীয়বারের মতো দলে ফিরে আসেন। ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩ ও ২০ রান তুলেন। জুলাই, ২০০৮ সালে এসএসসিতে অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে শতক হাঁকান। এছাড়াও, ত্রিনিদাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজাত খেলা উপহার দিয়ে উভয় দলের বিপক্ষে পরপর দুই টেস্টে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। এরফলে, দলে স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করে ফেলেন। তাসত্ত্বেও, উপমহাদেশের বাইরে তাঁর ব্যাটিং সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন এসে যায়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৬ ও ১২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রামনরেশ সারওয়ানের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সমর্থ হয়।
ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালেও একই মানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। এ বছরেই তিনি তাঁর স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছিলেন ও নিজের সেরা ইনিংসগুলো খেলেন। সফরের শুরুরদিকে পাকিস্তানের পিচেও বেশ সফল ছিলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। পাকিস্তান সফরে দুই টেস্ট থেকে উপর্যুপরী দ্বি-শতক হাঁকান। করাচীতে ব্যক্তিগত সেরা ২৩১ রান তোলার পর লাহোরে ২১৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র সাথে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৪৩৭ রান তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২৩১ ও ২৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ইউনুস খানের (৩১৩) মনোরম ত্রি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
৩ মার্চ, ২০০৯ তারিখে দলীয় বাসে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে গমনকালীন সন্ত্রাসীদের আক্রমণে বাম উরুতে বুলেটের আঘাতে ১২ ইঞ্চির ক্ষত সৃষ্টি করে। ঐ টেস্ট বাতিল করা হয় ও শ্রীলঙ্কা দল দেশে ফিরে যায়। অস্ত্রোপচার ও মানসিক দৃঢ়তা আনয়ণে তিন মাস সময় বিশ্রামে ছিলেন।
৪ জুলাই, ২০০৯ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজস্ব ৫০তম টেস্টে অংশ নেয়ার মাধ্যমে খেলার জগতে ফিরে আসেন।
২০০৯ সালে নিজ দেশে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৬ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৪৩ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যের কারণে সফরকারীরা ৯৬ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ৩৪৭ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতর সংস্করণে প্রত্যাবর্তন করেন। নভেম্বর, ২০০৫ সালের পর ডাম্বুলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওডিআইয়ে খেলতে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে অবশেষে ওডিআইয়ে নিজস্ব প্রথম ওডিআই শতকের সন্ধান পান। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত নিজস্ব ২২তম ওডিআইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৪ রান তুলেন। এরপর থেকে ওডিআই দলে থেকে রান সংগ্রহ স্ফীততর করতে থাকেন।
২০১০ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ আগস্ট, ২০১০ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। চেষ্টা চালিয়েও দলের বিপর্যয় রোধ করতে পারেননি। পি সারা ওভালের ব্যাটিং অনুপযোগী পিচে প্রথম ইনিংসে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ৮৭/৭ সংগ্রহের পর মাঠে নেমে ৮৩ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও, ভারতের বিজয়কে রোধ করা যায়নি। ভিভিএস লক্ষ্মণের অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০১১ সালে নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলায় ছন্দহীনতার কবলে পড়েন। ফলশ্রুতিতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলা থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু, ঐ সিরিজে দলের পরাজয়ে পুণরায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাঁকে শ্রীলঙ্কা দলে খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়। ডিসেম্বর, ২০১১ সালে সতীর্থরা হিমশিম খেললেও আস্থা অর্জনে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। ডারবানে ১০২ রানের দূর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্রীলঙ্কার প্রথম জয়ে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন।
২০১২ সালে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও বছরের শেষদিকে ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে জ্যাকসন বার্ডের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ সফরে ছয় ইনিংস থেকে মাত্র ৭৭ রান তুলতে সক্ষম হন ও দল ৩-০ ব্যবধানে পরাভূত হয়।
এরপর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেললেও নিজ দেশে বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজ থেকে বাদ পড়েন। মার্চ, ২০১৩ সালে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। সবমিলিয়ে ১৪টি টেস্ট শতক ও দুইটি ওডিআই শতক হাঁকিয়ে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং পরামর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
