২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০ তারিখে ত্রিনিদাদের সবো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ছোটখাটো গড়নের অধিকারী তিনি। অসাধারণ ফিল্ডিং করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। যে-কোন অবস্থানে থেকেই নিজেকে মেলে ধরতেন। সচরাচর শট-লেগ অঞ্চলে অবস্থান করতেন। ব্যাট হাতে নিয়েও বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। দর্শনীয় পুল ও কাটে তাঁর ব্যাট সচল থাকতো। এছাড়াও, পায়ের কারুকাজে স্পিনারদের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। প্রয়োজনে ড্রাইভের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৫২ টেস্ট ও ১৫৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৮১ তারিখে পার্থে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৩ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যান্ডি রবার্টসের বোলিং দাপটে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২৯ অক্টোবর, ১৯৮৩ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৬৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দিলীপ বেঙ্গসরকারের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জন রাইটের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। ইংরেজ বোলারদের বিপক্ষে দলের সংগ্রহ ২৭/৪ থাকা অবস্থায় ১৩৯ বল মোকাবেলায় ৯৮ রান তুলেছিলেন। দলের সংগ্রহকে ১৯৯ রানে নিয়ে যান। ১৯৮৮ সালে লর্ডসে ৮১ ও ৯৫ রান তুলেন। মাদ্রাজ টেস্টে নরেন্দ্র হিরবাণী’র দাপটের মধ্যেও চতুর্থ ইনিংসে ৬২ বল থেকে ৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে সাবিনা পার্কে ক্রেগ ম্যাকডারমটের বলে মুখে আঘাত পেয়ে ৯ রানে রিটায়ার হার্ট হন। সাতটি সেলাই করতে হয়েছিল। পুণরায় মাঠে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯৮ রান সংগ্রহের মধ্যে আরও ৬৮ রান যোগ করেছিলেন।

১৯৯১ সালে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। রিচি রিচার্ডসনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ওডিআইয়ে দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন ও প্রায় একাকী ফিল্ডিং সামলাতেন। ১৯৮৬ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন ও দুইজনকে রান-আউটে বিদেয় করেন। এছাড়াও, প্রায় ডজনখানেক রান আটকান। ব্যাট হাতে নেয়ার সুযোগ না পেলেও শুধুমাত্র ফিল্ডিংয়ের কারণে প্রথমবারের মতো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

টেস্টগুলো থেকে ৩৬ গড়ে ২৪৭০ রান ও ওডিআই থেকে ২৯ গড়ে ২৮০৯ রান তুলেছেন।

১৯৮৮ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বর্ষসেরা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব পুরস্কারে সম্মানিত হন। ১৯৯৩ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোয় ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ হামিং বার্ড সিলভার পদক লাভ করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ক্রিকেটার অবস্থাতেই ২৭ বছর বয়সে সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার স্কুলে কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘বি’ দলকে প্রশিক্ষণ দিতেন। এক পর্যায়ে ২০০৩ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে কানাডা দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে বারমুডা দলের কোচ ছিলেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান। ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহিলা দলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট