১ জুলাই, ১৮৪৯ তারিখে নটিংহামে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
জন্মকালীন তিনি ‘জন বারোজ’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। পিতা উইলিয়াম সেলবি নটিংহাম ওল্ড ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ বছর বয়সে নটিংহাম এক্সচেঞ্জ সিসি’র পক্ষে খেলেন। পরের বছর ট্রিনিটি ইউনাইটেড সিসিতে চলে যান। উপর্যুপরী তিন মৌসুমে নটিংহ্যামশায়ার কোল্টস দ্বাবিংশতিতম দলের যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন। তন্মধ্যে, ১৮৭০ সালের সর্বশেষ যাচাই-বাছাইয়ে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৭০ থেকে ১৮৮৭ সময়কালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে পেশাদারী পর্যায়ে খেলেন। তন্মধ্যে, ১৮৭৮ সালে ৩১.৮২ গড়ে ৯৩৮ রান তুলেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ১২৭তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন।
১৮৭৭ থেকে ১৮৮২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। দুইবার অস্ট্রেলিয়া সফর করে টেস্টগুলো খেলেছিলেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমে জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ঐ সফরে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইংরেজ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে আউট হন। ৭ ও ৩৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জন হজেসের বলে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪৫ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এছাড়াও, ১৮৮১-৮২ মৌসুমে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১০ মার্চ, ১৮৮২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৪৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। উল্লেখ্য, ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই সর্বশেষ ড্র টেস্ট ছিল। উভয় সফরেই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮২ রান তুলেছেন। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেটের পাশাপাশি অ্যাথলেট হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। পেশাদারী পর্যায়ে স্প্রিন্টার হিসেবে অংশ নেন। ‘বেন্ডিগোজ নোভিস’ ছদ্মনামে ট্রেন্ট ব্রিজ মাঠে নিয়মিতভাবে অংশ নিতেন। ১২০ গজ দৌড় তাঁর প্রিয় বিষয় ছিল। ট্রেন্ট ব্রিজে বেশ কয়েকবার ট্রফি জয় করেন। পাশাপাশি, দুইবার শেফিল্ড হ্যান্ডিক্যাপে অংশ নেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। একটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে সফলতার সন্ধান পাননি। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। নটিংহ্যামশায়ারের উইকেট-রক্ষক জন হগের কন্যার সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৮৯৩ সালে অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি হলেও তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। খুব শীঘ্রই প্যারালাইটিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ১১ মার্চ, ১৮৯৪ তারিখে নটিংহামের স্ট্যান্ডার্ড হিল এলাকায় মাত্র ৪৪ বছর ২৫৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
