২৬ জুন, ১৯৮০ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

গ্রেন্সওয়াগ হাই স্কুলে অধ্যয়ন শেষে প্রিটোরিয়াভিত্তিক তসোয়ান টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে লায়ন্স, নর্থ ওয়েস্ট, ডলফিন্স ও নর্দার্নস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কম্বাইন্ড গটেং-নর্থ ওয়েস্ট একাদশ, মিডলসেক্স দ্বিতীয় একাদশ, ল্যাঙ্কাশায়ার দ্বিতীয় একাদশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ও বাদ-বাকী আফ্রিকার পক্ষে খেলেছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে টাইটান্সের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এ সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করছিলেন। এছাড়াও, ইউসিবিএসএ ন্যাশনাল একাডেমির পক্ষে খেলেন।

রাস্টেনবার্গ থেকে চলে আসেন ও পরবর্তী দুই মৌসুমে নর্থ ওয়েস্ট শৌখিন দলের পক্ষে খেলেন। এরপর, ২০০৫-০৬ মৌসুমে লায়ন্সের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। দলটির পক্ষে ১৮.৪৭ গড়ে ৪২ উইকেট দখল করেন। ছাড়াও, ২০০৬-০৭ মৌসুমে ছয়বার পাঁচ-উইকেটসহ ২০.২১ গড়ে ৬১ উইকেট নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। ২০০৭-০৮ মৌসুমের শুরুতে ভারত গমনার্থে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০০৮ মৌসুমকে ঘিরে মিডলসেক্সের কোলপ্যাক খেলোয়াড় হিসেবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে, ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে টেস্ট দলে খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়।

২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আঘাতের কবলে পড়া ডেল স্টেইনের পরিবর্তে খেলার সুযোগ পান। চূড়ান্ত দিন বিকেলে নতুন বল নিয়ে সাত ওভারে ৩/১১ তুলে নিয়ে দলের স্মরণীয় বিজয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ পর্যায়ে জোনাথন ট্রটকে ৬৯ রানে ফিরিয়ে দেন। খেলায় তিনি ১/৭২ ও ৪/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ৩ জানুয়ারি, ২০১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৬ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলনায়ক গ্রায়েম স্মিথের আপ্রাণ প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিতব্য সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টের পূর্বে পিঠের আঘাতের কবলে পড়লে বামহাতি পেসার ওয়েন পার্নেলকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

২০১১ মৌসুমকে ঘিরে হ্যাম্পশায়ার কর্তৃপক্ষ ৫ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে কোলপ্যাক চুক্তির আওতায় তাঁর সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। ডিসেম্বর, ২০১৫ সালে নিজ গৃহে ফিরে আসেন। বিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট