২১ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মার্শডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, লেখক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
পুলিশ বয়েজ ক্লাবে খেলতেন। ৯/৮, ৯/৪ ও ৮/৭ লাভ করে অসাধারণ ক্রীড়া প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। ১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৮০-৮১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ২৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। একই খেলায় লিন মার্কসের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৭৮ রানের জুটি গড়ে শেফিল্ড শীল্ডে রেকর্ড গড়েন। এরপর, বোলিংয়ে নেমে ৭/৬৩ পান।
১৯৬৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৭৪ টেস্ট ও ২৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। বিংশতিতম জন্মদিনের পূর্বে ১০ ডিসেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। পিটার অ্যালানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল। অভিষেকে দলের একমাত্র ইনিংসে নয়ন মনোহর ১৫৫ রানের শতক হাঁকিয়ে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ১/২৫ ও ১/২২ লাভ করেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগসর হতে থাকে।
মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত পরের খেলায় ১৫৫ রানের শতরানের ইনিংস খেলার পর ২২ ও ১১৫ রান তুলে দূরন্ত সূচনা করেন। ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ডেভিড ব্রাউনের বলে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরৎ যান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫০ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়।
এরপর, ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৫৩ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ‘বব কাউপারের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে মেলবোর্নে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
১৯৬৬ সালে জাতীয় সেবায় অংশ নিলে দুই বছরের জন্যে খেলার জগৎ থেকে বিরত থাকেন। তবে, তাঁকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে পাঠানো হয়নি। ১৯৬৮ সালে ২৭৮৩৮৭৩ প্রাইভেট ওয়াল্টার্স, কে. ডি., প্রশিক্ষণ শেষ করেন। সফররত ভারত দলের বিপক্ষে দুই টেস্টে ১২৭.০০ গড়ে রান তুলেন। ১৯৬৮ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। মাত্র একাদশ টেস্টে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১১০ ও ৫০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
১৯৬৯-৭০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২২ জানুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৭৩ ও ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।
একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৯ ও ১/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। চূড়ান্ত টেস্টে সফরকারীরা ৩২৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ টেস্টের পর পরবর্তী ২২ বছর স্বাগতিক দলটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়।
১৯৭২ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুন, ১৯৭২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনে।
এরপর, ১৩ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জন স্নো’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫/৬৬ লাভ করে বিশ্বস্ত ফাস্ট-মিডিয়াম সুইং বোলার হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন।
১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে ওয়েলিংটনে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ৩২ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭৫ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩১ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বিরাট সাফল্যের সাথে ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১১৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৪৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ছয় নম্বর অবস্থানে এটি সর্বোচ্চ রানের মর্যাদা পায়। ৩৯৪ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে দুইটি ছক্কা ও ৩০টি চারের মারে এ রান তুলেন। টেস্টে পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৪২ রানকে অতিক্রম করেন। সপ্তম উইকেটে গ্যারি গিলমোরের (১০১) সাথে ২১৭ রানের নতুন অস্ট্রেলীয় টেস্ট রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২০* রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭৭ সালে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে এটি সর্বশেষ টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে একই টেস্টে দ্বি-শতক ও শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে নিজ দেশে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭৮ ও ১৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে * বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৫৯ রানে জয় পেলে ১-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৪৮.২৬ গড়ে ১৫ শতক সহযোগে ৫৩৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, দুইটি দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেছেন। এছাড়াও, ২৯.০৮ গড়ে ৪৯ উইকেট দখল করেছিলেন ও ৪৩ ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৩.৮৪ গড়ে ৪৫ শতক সহযোগে ১৬১৮০ রান তুলেছেন। ৩৫.৬৯ গড়ে ১৯০ উইকেটের সন্ধান পান।
১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিদ্রোহী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ইয়ান চ্যাপেল তাঁর সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে স্পিনের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানো সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে ভিভিএস লক্ষ্মণ ও ডগ ওয়াল্টার্সের প্রভূত্ব করার বিষয়টি তুলে ধরেন।
১ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়া হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই উপাধিতে ভূষিত হন। ২০১১ সালে অপর ৩৩জন ক্রিকেট তারকার সাথে তাঁকেও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে চ্যানেল নাইনের ক্রিকেট ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে ‘ওয়ান ফর দ্য রোড’ প্রকাশ করেন। এরপর, ১৯৯৯ সালে মার্ক ওয়াহ’র সাথে যৌথভাবে ‘দি এন্টারটেইনার্স’ গ্রন্থ প্রকাশে অগ্রসর হন। অবসর গ্রহণের পর সিডনিতে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ক্যারোলিন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।
