১১ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কিয়াব্রাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

নিজের সময়কালে দূর্দান্ত লেগ-স্পিনার হিসেবে নিজেকে আবির্ভূত করেছিলেন। তবে, সম্পূর্ণই নিজের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সঠিকভাবে মেলে ধরতে পারেননি। প্রথাগত স্পিনার হিসেবে ব্যাটসম্যানের চোখ বরাবর লক্ষ্য করে বলকে ফেলতেন। প্রত্যেকবারই বলকে বেশ ঘুরাতেন। ফলশ্রুতিতে, পর্যাপ্ত বাঁক ও বাউন্স খাওয়ানোয় সক্ষমতা প্রদর্শন করতেন। লেগ-ব্রেক ও গুগলি ছাড়াও ভিন্নতা আনতেন বিশেষতঃ ফ্লিপার ও স্লাইডার প্রয়োগ করে অধিকাংশ ব্যাটসম্যানকেই বিভ্রান্তিতে ফেলতেন।

১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ভিক্টোরিয়ার অত্যন্ত কার্যকর লেগ-স্পিনার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন।

১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ‘প্যাকার সার্কাস’ নামে অভিহিত অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট চলাকালে ৩ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ সিরিজ চলাকালে সেরা খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। তবে, নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। ২৪.৫ ওভারে ৪/৯১ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ২ রান সংগ্রহ করেন। ঐ সিরিজে ২৫ গড়ে ১৫ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯* ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬৯ ও ১/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক গ্রাহাম ইয়ালপের অসাধারণ ব্যাটিং সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

এছাড়াও, ১৯৭৫ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। এ সফরে গ্রেস রোডে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলেছিলেন। অ্যাশেজ সফরে মাত্র এক বল খেলে ক্রিস বল্ডারস্টোনের বলে বোল্ড হন।

টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ খেলেছিলেন। তবে, ভারতের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। দলটির বিপক্ষে ৪৭ গড়ে উইকেট পান। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে নিজ দেশে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ বছর বয়সে ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬৫ ও ০/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৫৯ রানে জয় পেলে ১-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলো থেকে ৩১.১৬ গড়ে ৬৬ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, দুইবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। এর দুই বছর পর ১৯৮৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদেয় জানান। খেলাগুলো থেকে ২৯.৬৬ গড়ে ৩৯৯ উইকেট পেয়েছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কয়েক বছর পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এক পর্যায়ে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ক্রিকেট সাংবাদিক গিডিওন হেই তাঁকে ‘রিচি বেনোশেন ওয়ার্নের মাঝামাঝি অবস্থানে ঠাঁই দিয়েছেন।’

সম্পৃক্ত পোস্ট