২৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পর্যাপ্ত পেস সহযোগে দ্রুতগতিতে বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
হাই স্কুল ওল্ড বয়েজ ক্লাবে খেলেন। কমনওয়েলথ গেমসে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল ব্রোঞ্জপদক লাভ করেছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ছন্দে থাকাকালে ক্যান্টারবারি দলের সদস্যরূপে বলকে উভয় দিক দিয়েই সুইং করাতে পারতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে সর্বোচ্চ গতি নিয়ে বলে বাউন্স আনতেন। পরবর্তীকালে বলে সুইং আনয়ণের দিকেই অধিক দৃষ্টিপাত ঘটান। মনেপ্রাণে খেলতেন। অকার্যকর পিচেও নিজের সেরা খেলা প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন।
১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ১০ টেস্ট ও ৩১টি ওডিআইয়ে অংশ নেন। তন্মধ্যে, ৯টি একদিনের আন্তর্জাতিকই ছিল বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায়। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। গ্রেগ লাভরিজ, নাথান অ্যাসলে ও রবার্ট কেনেডি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৫১ ও ০/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৭ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১১৭ ও ১/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মার্ক টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ড দলের উত্থানে অন্যতম ভূমিকা রাখেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছিল। নয় খেলা থেকে ২০ উইকেট পেয়েছিলেন। অধিকাংশই খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে লাভ করেন। তবে, এক খেলা বেশী খেলে শেন ওয়ার্ন প্রতিযোগিতার শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে কোন রান সংগ্রহ না করার ন্যায় অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে জড়ান। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ফলো-অন এড়াতে ১০২ রানের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় এগারো নম্বর অবস্থানে থেকে মাঠে নামেন। ক্রিস হ্যারিসের সাথে ৩২ রানের জুটি গড়েন। ১০১ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে ৭৭টি বল মোকাবেলা করলেও কোন রান সংগ্রহ করতে পারেননি। জ্যাক ক্যালিসের বলে শন পোলকের কটে শূন্য রানে বিদেয় নেন ও এ পর্যায়ে গডফ্রে ইভান্সের রেকর্ড ভঙ্গ করলে দর্শককূল তুমুল করতালি দেয়। অথচ, একই খেলায় ডেরিল কালিনান ২৭৫ রান তুলেও তাঁর ন্যায় অধিক হাততালি পাননি। রান সংগ্রহের চেয়ে টিকে থেকে দলকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে, ২০১৩ সালে স্টুয়ার্ট ব্রড তাঁর এ রেকর্ড ভঙ্গ করেন।
১৯৯৯ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুলাই, ১৯৯৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০/৩৭ ও ৩/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ম্যাট হর্নের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রতিভাবান ক্রিকেটার হলেও তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ স্বল্পকালীন ছিল। বোলিংকালে সম্মুখের পায়ের চাপ কমাতে জুতো কেটে ফেলেন। দুই জোড়া মোজা পড়তেন। সর্বদাই পিঠে আঘাত অনুভব করতেন। রিচার্ড হ্যাডলি’র সহায়তায় এ সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটান। ১৯৯৯ সালে বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করেন। তবে, ২০০০ সালে কেবলমাত্র সীমিত-ওভারের ক্রিকেটেই মনোনিবেশ ঘটান। ১৯৯৮ সালে ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটানোকল্পে ব্যাংকের চাকুরী ছেড়ে দেন।
ক্রমাগত আঘাতের কারণে মার্চ, ২০০১ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, তিনি ব্যাংক ও আর্থিক খাতে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের শেষদিকে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট কর্তৃক ক্রিকেট জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে বাংলাদেশ দলের কাছে কিউইরা ৪-০ ব্যবধানে বাংলাওয়াশের শিকার হলে এ সফর শেষে তাঁকে অব্যহতি দেয়া হয়।
