২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তবে, দীর্ঘদিন রান খরায় ভোগার পর লেগ-স্পিন বোলিংয়ের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ইতিবাচক ফলাফল পান। নিউজিল্যান্ডীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত তারকা খেলোয়াড় হিসেবে বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ান। নিচেরসারিতে কার্যকর মারকুটে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি চমৎকারভাবে ফিল্ডিং করতেন। এ সকল কারণে সীমিত-ওভারের উপযোগী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত খেলায় ক্যান্টারবারির সদস্যরূপে অকল্যান্ডের বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। উদ্বোধনী জুটিতে কাইরান অ্যাম্বলারের সাথে ৩৭৪ রানের জুটি গড়ে প্রথমবারের মতো সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন ও নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে রেকর্ড গড়েন।
২০০৫ থেকে ২০২০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও নিউজিল্যান্ড একাডেমির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৫ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত ওয়েলিংটন বনাম ক্যান্টারবারির মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তবে, ঐ খেলায় মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
২০০৫ সাল থেকে ক্যান্টারবারির পক্ষে খেলছেন। শুরুতে শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। পরবর্তীতে, নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা লেগ-স্পিন বোলারে পরিণত হন। চার বছরের মধ্যে তিনবার দলের প্লাঙ্কেট শীল্ডের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। এছাড়াও, ২০১৬-১৭ মৌসুমের ফোর্ড ট্রফি বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
২০১২ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। বিস্ময়করভাবে ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলের খেলার জন্যে আহুত হন। রস টেলরের নেতৃত্বে থেকে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র স্থলাভিষিক্ত হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করেন। ২৫ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৪১ ১/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
টেস্টে তেমন সফলতা না পেলেও চমৎকার খেলেছিলেন। কয়েক বছর খেলার পর বাদ পড়েন। তবে, ঘরোয়া আসরে দারুণ খেললে ২০১৬-১৭ মৌসুমে পুণরায় তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়। টি২০আইয়ে অভিষেকের কয়েক মাসের মধ্যেই ৫০-ওভারের ক্রিকেটে অংশ নেন।
২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে রাহাত আলী’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৯-২০ মৌসুমে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/১১১ ও ১/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫* ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ২৭৯ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০২০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলার দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ৩০৩টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করে ক্যান্টারবারির শীর্ষ বোলারে পরিণত হন। এছাড়াও, ১৯৫ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছিলেন।
এনজেডসি সভাপতি ডেবি হকলি’র কাছ থেকে ডব্লিউটিসি পদক গ্রহণ করেন।
