|

জ্যাক অ্যালাব্যাস্টার

১১ জুলাই, ১৯৩০ তারিখে সাউথল্যান্ডের ইনভারকার্গিলে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৭২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা লেগ-ব্রেক বোলার ছিলেন। এছাড়াও, প্রথম কিউই খেলোয়াড় হিসেবে দলের প্রথম চার টেস্ট বিজয় পর্যবেক্ষণ করেন। পূর্বে কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ না নেয়া সত্ত্বেও ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান ও ভারত গমনার্থে তাঁকে নেয়া হয়।

১৩ অক্টোবর, ১৯৫৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিন হ্যারিসট্রেভর ম্যাকমাহোনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৪ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এ সফরে পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র ২ উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাঙ্গালোরে দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে ২/৩০ ও ৫/৯৯ পেয়েছিলেন। এ সাফল্যের কারণে নিউজিল্যান্ড সফরে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার পথ প্রশস্ত হয়। দুই উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তৎকালীন সর্বনিম্ন ৭৭ রানে গুটিয়ে দিতে যথার্থ ভূমিকা রাখেন। তবে, খুব শীঘ্রই তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন। ৯ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১* ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৬ ও ২/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করে ২৬ বছর ও ৪৫ টেস্টে অংশ নেয়ার পর নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট বিজয়ে অনবদ্য অবদান রাখেন। খেলায় তাঁর দল ১৯০ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সময়কালে ওতাগোর পক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ১৮ গড়ে ৩৬ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, অকল্যান্ডের বিপক্ষে খেলায় দশ উইকেট পান। এরফলে, ১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে তাঁকে পুণরায় জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সফরের শুরুতে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানের বিজয়ে দারুণ খেলেন। ৬/৩৭ ও ৫/৪৩ পেয়েছিলেন তিনি।

৫ জুন, ১৯৫৮ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে এফএস ট্রুম্যানকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৪। ৪/৪৬ ও ০/৩৩ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ২০৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। তবে, দ্বিতীয় টেস্টের পর তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়।

আবারও কঠোর পরিশ্রমে তৎপর হন ও দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে স্বীয় স্থান দখল করতে সমর্থ হন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ডারবানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে ৭৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৩০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, তৃতীয় টেস্টে ১৮০ রান খরচায় ৮ উইকেট দখল করেন। এটিই তাঁর টেস্টে সেরা সাফল্য ছিল। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড দল বিদেশের মাটিতে তাদের প্রথম জয়ের সন্ধান পায়। পঞ্চম টেস্টে চার উইকেট পান। এরফলে, জন রিড ও নোয়েল ম্যাকগ্রিগরের সাথে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিউজিল্যান্ডের তিন টেস্ট বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।

একই সফরের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে গুফি লরেন্সের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ২/৬৩ ও ২/৯৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলা শেষ হবার মাত্র ২১ মিনিট পূর্বে সফরকারীরা ৪০ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়। প্রসঙ্গতঃ এ জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো একটি সিরিজে দুই জয়ের সন্ধান পায়। এ সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটে ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই নিজের স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৮৬ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, টেস্টগুলো থেকে ২৮.০৪ গড়ে ২২ উইকেট লাভ করে নিউজিল্যান্ড দলকে সিরিজে সমতায় আনতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে নিজ দেশে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ১৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৬৬ ও ৩/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৭১-৭২ মৌসুমে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৯ মার্চ, ১৯৭২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৪৯ ও ১/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ৯ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে ক্রোমওয়েলে ৯৩ বছর ২৭৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট