১০ জুলাই, ১৯০৬ তারিখে সাসেক্সের চেইলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন।
নিউইকের ওয়েলডেন এলাকায় স্বীয় ভ্রাতার সাথে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। উভয়েই তাঁদের বিদ্যালয়ের সদস্যরূপে কাউন্টি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কাকাতো ভাই ও বয় স্কাউট আন্দোলনের রূপকার ব্যাডেন-পাওয়েল তাঁদেরকে সহায়তা করতেন। কিশোর অবস্থাতেই তিনি যক্ষ্মা রোগে ভুগতে থাকেন। রিংমারের খেলা চলাকালীন লুটিয়ে পড়েন ও ব্যাডেন-পাওয়েল তাঁকে নিউজিল্যান্ড অভিমুখে কোচের দায়িত্বে থাকা টেড বোলি’র সাথে অবকাশযাপনের সুযোগ করে দেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৪ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, সাসেক্সের পক্ষে ৩০ বছর খেলেছেন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা জনের তুলনায় সর্বদাই নিজেকে উপরে তুলে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। ‘জিম’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। সাসেক্স দলের উত্তরণে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করে গেছেন।
১৯২৪ সালে সাসেক্সে যোগ দিলেও ১৯২৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পাননি। এ সময়ে কৌশলগতভাবে সঠিকমানের বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ধীরলয়ে যে-কোন ধরনের স্ট্রোক খেলতে পারতেন। প্রথম মৌসুমে মাত্র আট রানের জন্যে সহস্র রান ও চার রানের জন্যে প্রথম শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন। পরের মৌসুমে অবশ্য উভয় ক্ষেত্রেই সফলতা পান। ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে প্রতিষ্ঠা লাভের পর বোলিংয়ে উত্তরণ ঘটান। শুরুতে বলে বেশ স্পিন আনতেন ও কিছু উইকেটের সন্ধান পান।
১৯৩৩ থেকে ১৯৪৬ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র আট টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, দূর্ভাগ্যবশতঃ সমসাময়িক ইয়র্কশায়ারীয় বিখ্যাত তারকা হ্যাডলি ভেরিটি’র সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। ১৯৩৩ সালে নিজ দেশে জ্যাকি গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুলাই, ১৯৩৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৩ ও ৭/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে থাকে।
এরপর, ১২ আগস্ট, ১৯৩৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী ছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৭ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯ ও ৫/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২০২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে নিজ দেশে ইফতিখার আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ আগস্ট, ১৯৪৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। বল হাতে নিয়ে ০/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সাসেক্সের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সীফোর্ড কলেজে কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। রিচার্ড ল্যাংগ্রিজ নামীয় সন্তান সাসেক্সের পক্ষে ১৯৫৭ সাল থেকে যুক্ত ছিল ও ১৯৬১ সালে ক্যাপ লাভ করে। ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে সাসেক্সের উইদডিন এলাকায় নিজ গৃহে ৬০ বছর ৬২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
