১৩ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলের পক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
অল-রাউন্ডার হিসেবে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় ছিলেন ও বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। মারকুটে ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। ২০০৮ ও ২০১০ সালে মোট দুইবার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৬ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাঁকে চুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়। এরফলে, কনিষ্ঠ নিউজিল্যান্ডীয় হিসেবে এ গৌরবের অধিকারী হন। কিশোর অবস্থা থেকেই তাঁর মাঝে অল-রাউন্ডারের গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়।
২০০৭ থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড, ক্যান্টারবারি ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, লাহোর কালান্দার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। ১২ মার্চ, ২০০৭ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস বনাম ক্যান্টারবারির মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তবে, নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকানোর জন্যে ২০১২ সাল পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ওতাগোর বিপক্ষে ১৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ ইনিংসের কল্যাণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আই দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।
২০১২ থেকে ২০১৮ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট, ৪৯টি ওডিআই ও ৩১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২১ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে, অভিষেক পর্ব মোটেই সুবিধের হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের ১২ মাসের মধ্যেই ক্রিকেট বিশ্বে দ্রুত সাড়া জাগাতে সমর্থ হন। ১৬ জুন, ২০১৩ তারিখে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে ৩৬ ঊর্ধ্ব গড়ে ৪৫০ রান ও ১৫০ ঊর্ধ্ব স্ট্রাইক রেটে রান তুলেন।
জানুয়ারি, ২০১৪ সালের নববর্ষের দিনে বল সংখ্যার দিক দিয়ে দ্রুততম ওডিআই শতক হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন। কুইন্সটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শের জন্যে তাঁকে মাত্র ৩৬ বল খরচ করতে হয়েছিল। এরফলে, শহীদ আফ্রিদি’র গড়া ১৭ বছরের রেকর্ড ম্লান হয়ে যায়। এছাড়াও, স্ব-দেশী জেসি রাইডারের ৪৬ বলের শতক হাঁকানোর রেকর্ড নিজের করে নেন। একই মাসের শেষদিকে ভারতের বিপক্ষে ৫/৬৪ নিয়ে প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে চিত্রিত করেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইশ সোধি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। ১ ও ৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২/৩৪ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, সোহাগ গাজী’র অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে দূর্দান্ত শতক হাঁকান। তবে, এ ইনিংসের কারণে দল জয় না পেলেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রস টেলরের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ মে, ২০১৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৯ ও ৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বেন স্টোকসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১২৪ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৭২ ও ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৬৬ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জো বার্নসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল ৭ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
শারীরিক সচেতনতার অভাব ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুরদিকের ধারাবাহিকতা না থাকলেও ঘরোয়া আসরে ঠিকই নিজেকে মেলে ধরছেন। আইপিএলে বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে $৭৫০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে প্লে-অফের খেলায় দলের উত্তরণে অপূর্ব ভূমিকা রাখেন। ৪৪ বল মোকাবেলায় ৯৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
এক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। আবাসকালীন যোগ্যতা অর্জনের পর ২০২৪ সালে কানাডার বিপক্ষে টি২০আই সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে দলে রাখা হয়। হোস্টনে সিরিজের চতুর্থ টি২০আইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১২ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে প্রেইরি ভিউতে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তিনি ২৯ বলে ২৮ রান সংগ্রহ করে দলের ১৪ রানের বিজয়ে অংশ নেন ও দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান।
