১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের কার্লটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশক থেকে ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে ‘নার্ভাস নর্ম’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মূলতঃ ইনিংসের সূচনালগ্নের বিষয়টি অনিশ্চিতের কারণেই এ নামকরণ হয়েছে। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৪২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ বছর বয়সে ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৪ ও ৭১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭৭ ও ৭* রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পূর্বের দুই টেস্টে জয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১০ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ফ্রেড ট্রুম্যানের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। ৯ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১১৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় আসতে সমর্থ হয়।
অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছেন। তন্মধ্যে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্টের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮১ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উভয় ইনিংসেই ওয়েস হলের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি টাইয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৬৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে গ্যারি সোবার্সের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে সমতা বিরাজ করে।
১৯৬১ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুন, ১৯৬১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২২ জুন, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৫ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৬১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৬৭ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৫৪ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৭ আগস্ট, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৭ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।
এরপর, ২৫ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১০০ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৩ ও ১৭ রান সংগ্রহ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেভিড অ্যালেনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
১৯৬১ ও ১৯৬৪ – এ দুইবার অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ইংল্যান্ড সফর করেছিলেন। ১৯৬৪ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক বব সিম্পসনের ৩১১ রানের বদৌলতে সফরকারীরা ৬৫৬/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৩ আগস্ট, ১৯৬৪ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪০ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৭৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৫ মে, ১৯৬৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫১ ও ৭৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে ছয় শতক সহযোগে ৪৬ গড়ে ২৭৭৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৩০ টেস্টের পর থেকে ৫০ গড়ে রান তুলেছিলেন। চার নম্বর অবস্থানে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এ অবস্থানে থেকে ৫৭ গড়ে রান পেয়েছিলেন। এছাড়াও, বিদেশের মাটিতে প্রত্যেক দেশের বিপক্ষেই ৩৭ ঊর্ধ্ব গড়ে রান সংগ্রহ করেছেন। টেস্টগুলো থেকে ছয় শতক সহযোগে ৪৫.৫৫ গড়ে ২৭৭৯ রান তুলেছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে টেস্টে অন্যতম সেরা অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছিলেন। তবে, নিজেকে কখনো পরবর্তী ‘ডন ব্র্যাডম্যান’ হিসেবে পরিচিতি ঘটাতে পারেননি।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দূর্দান্ত লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। ৩৯.২৪ গড়ে ১৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে পোর্ট অব স্পেন টেস্টে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৪/৪১ লাভ করেন।
১৯৬২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৯৬৪ সালে স্বীয় আত্মজীবনী ‘ইন্স এন্ড আউটস’ প্রকাশ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯৫৮ সালে গিন ওয়ালেস নাম্নী ১৯৫৪ সালের এম্পায়ার গেমসের স্প্রিন্ট রিলেতে স্বর্ণপদক বিজয়ী ক্রীড়াবিদকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির মার্ক ও’নীল নামীয় সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন কণ্ঠনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। অতঃপর, ৩ মার্চ, ২০০৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের এরিনা এলাকায় ৭১ বছর ১৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
