|

মার্ক ইলহাম

২৭ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে কেন্টের উইলসবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ইলি’ কিংবা ‘বর্ডার’ কিংবা ‘স্কেটার’ ডাকনামে ভূষিত মার্ক ইলহাম ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। স্টোর ভ্যালি সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। পরের মৌসুমে কেনিয়া ও শ্রীলঙ্কা সফরে যান।

১৯৮৯ থেকে ২০০৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে সাউথ পার্থ ও ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে পার্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। জুন, ১৯৯৬ সালে এজবাস্টনে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ৮/৩৬ লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে, ইংল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ১৯৮৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট ও ৬৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ মে, ১৯৯৬ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারত দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে প্রবেশ করেন।

একই সফরের ৪ জুলাই, ১৯৯৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্বটি দারুণ হয়েছিল। খেলায় ছয় উইকেট নিয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তন্মধ্যে, ৩৬০ বল মোকাবেলায় ১৭৭ রানে থাকা শচীন তেন্ডুলকরকে মিন (মিনাল) প্যাটেলের ক্যাচে পরিণত করে বিদেয় করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৯০ ও ৪/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র প্রথম ইনিংসে ৫১ রানের কার্যকর অর্ধ-শতক হাঁকান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও প্রথম টেস্টে পরাজয়ের সুবাদে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে শারজাহ গমন করেন। ১৯৯৮ সালে উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফর করেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে সিইউবি সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া যান। একই মৌসুমে শারজায় কোকা-কোলা কাপে অংশ নেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সফরে যান। উভয় ক্ষেত্রেই ওডিআই সিরিজ খেলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি নক-আউট ট্রফিতে অংশ নেন। একই মৌসুমে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় ওডিআই সিরিজ খেলেন।

১৯৯৮ সালে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ জুন, ১৯৯৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জন্টি রোডসের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

প্রো৪০ প্রতিযোগিতায় গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জিএস ইলহাম নামীয় সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট