|

প্রিন্স মাসভুরে

৭ অক্টোবর, ১৯৮৮ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সহজাত ভঙ্গীমায় স্ট্রোকপ্লে মারেন। কিছুসময় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে যুক্ত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে সময় অতিবাহিত করেন। এরপর জাতীয় দলে খেলার উপযোগী হন।

বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী হিসেবে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতেন। অনেকটা আকস্মিকভাবে ক্রিকেটের সাথে জড়িত হন। বেসবল খেলাকে অগ্রাধিকার দিতেন। বিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন একাদশের সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। বড় ধরনের মারের কারণে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, কিশোরদের ক্রিকেট দলের শূন্যতা পূরণে ক্রিকেট কোচ তাঁকে খেলতে পাঠান। এভাবেই ক্রিকেটের সাথে যুক্ত হন। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্রুত তাঁর উত্থান ঘটতে থাকে।

২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস, মিড ওয়েস্ট রাইনোস, নর্দার্নস ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাজভেজে টাইগার্স ও সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলেছেন। ১২ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে মুতারেতে অনুষ্ঠিত ইস্টার্নস বনাম নর্দার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে।

২০০৬-০৭ মৌসুমে লোগান কাপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। নর্দার্নসের সদস্যরূপে কেনিয়া নির্বাচিত একাদশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ৫০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন। এছাড়াও, দুই উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেন। ১৬ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে গ্যারি ব্যালেন্সের সাথে একত্রে খেলেছিলেন। ২০০৮ ও ২০১০ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাসমূহে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে কয়েক মৌসুম দূর্দান্ত খেলেন। এরফলে, জিম্বাবুয়ের জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।

২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে ডেভনভিত্তিক স্যান্ডফোর্ড সিসির পক্ষে যোগ দেন। শুরুতে খেলায় ধারাবাহিকতা ছিল না। ইংরেজ পরিবেশে পিচের সাথে পরিচিতি ঘটিয়ে পরবর্তীতে দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান। ব্যাট হাতে ৯৪৭ রান ও বল হাতে ২৮ উইকেট দখল করেছিলেন।

২০১৬ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬ সালে নিজ দেশে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৮ জুলাই, ২০১৬ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। মাইকেল চিনুয়া ও চামু চিভাভা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, ঐ খেলায় ৪২ রান তুললেও দলের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। দলীয় সংগ্রহ ৭২/৫ থাকাকালীন চতুর্থ বল মোকাবেলার পূর্বেই আরও তিনজন সঙ্গীর বিদেয় দৃশ্য অবলোকন করেন। ডোনাল্ড তিরিপানো’র সাথে নবম উইকেটে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ৮৫ রানে নিয়ে যান ও এক পর্যায়ে দল মাত্র ৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৭ রানে জয় তুলে নেয়।

এক সপ্তাহ পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৪৬ রানের অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন। এছাড়াও, শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখার বিষয়টিও বিরূপ প্রভাব ফেলে। এর কয়েক মাস পর অস্ট্রেলিয়া গমন করেন ও সেখানে ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা থেকে দ্বিতীয়/তৃতীয় পর্যায়ের কোচ হিসেবে সনদ পেয়েছেন। ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬৪ রান তুলেন।

২০২০-২১ মৌসুমে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে ঘিরে শন উইলিয়ামসের অধিনায়কত্বে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১০ মার্চ, ২০২১ তারিখে আবুধাবিতে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৫ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র ২০০ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের মুখোমুখি হন। ২৯ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৬ রানে জয় পায়। প্রথম ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করেন। তবে, আঘাতের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে যাননি।

২০২৪ সালে ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে আয়ারল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুলাই, ২০২৪ তারিখে বেলফাস্টের সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭৪ ও ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয়লাভ করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট