২২ অক্টোবর, ১৯৪৮ তারিখে ডার্বিশায়ারের ডার্লি ডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
’৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলারের পরিচিতি পেয়েছিলেন। নিখুঁতমানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য বোলিং করতেন। তবে, ইয়ান বোথাম ও বব উইলিসের সফলতায় ম্লান হয়ে পড়তেন। ‘হেন্ডো’ ডাকনামে ভূষিত মাইক হেনড্রিক ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। উচ্চ মার্গীয় ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৪ থেকে ১৯৮১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৩০ টেস্ট ও ২২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৮৭ উইকেট দখল করেছেন। তিনবার অ্যাশেজ সিরিজ বিজয়ী ইংল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৭৪ সালে নিজ দেশে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুন, ১৯৭৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না পেলেও তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৭ ও ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১১৩ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ঐ গ্রীষ্মে পাঁচ টেস্টের সবকটিতেই অংশ নেন। তন্মধ্যে, পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলেছিলেন। পরবর্তী শীতকালে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। কিন্তু, সিরিজের তৃতীয় টেস্টে আঘাতের কবলে পড়লে বাদ-বাকী খেলাগুলোয় অংশ নিতে পারেননি। তবে, সফরের শেষদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ১৯৭৬ সালে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশ নেন।
১৯৭৬ সালে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৪৮ ও ১/৬৩ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় সফরকারীরা ৪২৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৭৭ সালে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে এটি সর্বশেষ টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৯৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৭৮-৭৯ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ১৫ গড়ে ১৯ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের ৫-১ ব্যবধানের সিরিজ বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। উইকেট লাভের তুলনায় সমীহ জাগানো বোলিংয়ের কারণে টেস্ট দলে প্রায়শঃই আসা-যাবার পালায় থাকতেন।
১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক গ্রাহাম ইয়ালপের অসাধারণ ব্যাটিং সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৭৯-৮০ মৌসুমে নিজ দেশে শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ আগস্ট, ১৯৭৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। তবে, বল হাতে নিয়ে ২/১৫ ও ০/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দিলীপ বেঙ্গসরকারের শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় এবং চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৮০ সালে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুন, ১৯৮০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭* ও ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৯ ও ১/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যান্ডি রবার্টসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা নাটকীয়ভাবে ২ উইকেটে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮১ সালে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬৩ ও ৪/৮২ বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডেনিস লিলি’র আপ্রাণ বোলিং প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পাশাপাশি, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ১৯৮৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর নটিংহ্যামশায়ারের ক্রিকেট ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত হন। এরপর, কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। নটিংহ্যামশায়ারের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও ডার্বিশায়ার দলকে প্রশিক্ষণ দেন। আম্পায়ার হিসেবে লিস্ট-এ ক্রিকেটের একটি খেলা পরিচালনা করেছেন। বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, নৈশভোজন পরবর্তী সময়ে বক্তৃতা করে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ক্যাথি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির ক্রিস্টোফার, জিল ও নিক নামীয় তিন সন্তান ছিল। পরবর্তীতে তাঁদের মাঝে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। মৃত্যুকালে শয্যাসঙ্গী ম্যাগি ও তাঁর সন্তানদেরকে রেখে যান। জীবনের শেষদিকে অন্ত্র ও যকৃতের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। ২৭ জুলাই, ২০২১ তারিখে ৭২ বছর ২৭৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
