২০ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ভীতিহীন, গ্লাভসবিহীন ও নিম্নাঙ্গের আচ্ছাদন ব্যতিরেকেই ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। ছোটখাটো দেহের অধিকারী হলেও সর্বদাই সরব ছিলেন। ইনিংস উদ্বোধনে ব্যাট হাতে মাঠে নামলেও মাঝে-মধ্যে তিন নম্বর অবস্থানে খেলতেন। কৌশলী কিংবা ফুরফুরে মেজাজের ঘাটতি থাকলে সকল ধরনের স্ট্রোক মারতে পটু ছিলেন।
১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ট্রান্সভালের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে এক মৌসুম বাদে বাদ-বাকী সময় ট্রান্সভালের সাথে যুক্ত ছিলেন।
১৯৩৫ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ২৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৫ সালে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হার্বি ওয়েড, ডাডলি নোর্স, ডেনিস টমলিনসন, চাদ ল্যাংটন ও বব ক্রিস্পের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৩ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬২ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে বিল বোজের শিকারে পরিণত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের শুরুটা বেশ দারুণ খেলেন। তবে, ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে অজিদের বিপক্ষে খেঁই হারিয়ে ফেলেন। ছয়বার বিদেয় নেন ও পাঁচবার ক্ল্যারি গ্রিমেটের প্রিয় শিকারে পরিণত হন। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৬২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৬৬ ও ৪৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ক্ল্যারি গ্রিমেটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যান। নাটালের বিপক্ষে ৩০৬ রানের ইনিংস খেলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমের পূর্ব পর্যন্ত এটি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মর্যাদা পায়।
১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৮৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে ডাডলি নোর্স ও ব্রুস মিচেলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে সমান অবস্থানে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও বিতর্কের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ব্যক্তিত্বের সংঘাতে ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ১৯৪৭ সালে আরও একবার দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, অ্যালান মেলভিল থেকে ডেভ নোর্সের অধিনায়কত্ব লাভের পর পুণরায় খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৮৬* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৪৯-৫০ মৌসুমে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ জানুয়ারি, ১৯৫০ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৪৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫১ সালে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। দলে সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। প্রায়শঃই ডেভ নোর্সের আঘাতের কারণে তাঁকে দলকে নেতৃত্ব দিতে হয় ও এ সফরে বিরাট প্রভাব ফেলেন। ডেভ নোর্স ও ব্রুস মিচেলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের ভিত্তি গড়নে অগ্রসর হতেন। রেকর্ডসংখ্যক £১৭,৫০০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করে তাঁর দল। এ সফরে দারুণ খেলার সুবাদে ১৯৫১ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এছাড়াও, অসীম সময়ের টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।
৫ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯৫১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৫ ও ৪৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হন।
টেস্টগুলো থেকে ৪৩.৬৬ গড়ে তিন শতক সহযোগে ১৯৬৫ রান তুলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০ শতক সহযোগে ৪৮.৫৮ গড়ে ১১৭১০ রান তুলেছিলেন।
জেপ ওল্ড বয়েজের পক্ষে ৫১ বছর বয়স অবধি খেলতে থাকেন। এরপর, বিদ্যালয় ক্রিকেটারদের সাথে কাজ করেন। ঘটনাক্রমে গরম জলে স্নানকালীন দূর্ঘটনার কবলে পড়েন। শেষের বয়সগুলোয় এর বিরূপ প্রভাব পড়লেও আত্মবিশ্বাসের কোনরূপ কমতি ছিল না। ৩০ এপ্রিল, ১৯৯৩ তারিখে ট্রান্সভালের এডেনভেল এলাকায় ৮৩ বছর ২৮৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। সহোদর টেস্ট ক্রিকেটার অ্যাথল রোয়ানের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা তিনি।
