২০ জুলাই, ১৯৭১ তারিখে সাসেক্সের ইস্টবোর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘গিজার’ ডাকনামে ভূষিত এড গিডিন্স ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ইস্টবোর্ন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার, সারে, সাসেক্স ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালের গ্রীষ্মে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ড্যারেন ম্যাডি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাটিংয়ে মোটেই সুবিধের ছিলেন না। ঐ খেলায় ফিল টাফনেল ও অ্যালান মুলালিকে পাশ কাটিয়ে এগারো নম্বর অবস্থানে নামতে ‘সক্ষম’ হন। খেলায় তিনি ০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৪৮ ও ৩/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
এরপর, জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০০০ সালে লর্ডস টেস্টে সফরকারী জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ৫/১৫ নিয়ে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে চিত্রিত করেন ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলকে জয় এনে দেন। উপযোগী পরিবেশে বলকে উভয়দিক দিয়ে ফেলেন। মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বে সাত ওভার বোলিং করেন। চতুর্থ বলে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে বিদেয় করলে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪৬/৪ দাঁড়ায়। দ্বিতীয় ইনিংসে সাত ওভার থেকে ২/২৭ পান ও খেলায় ৪২ রান খরচায় ৭ উইকেট দখল করেন।
নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুবিধে করতে পারেননি। ওভারপ্রতি চারের অধিক রান খরচ করে ফেলেন। ২০০০ সালে নিজ দেশে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ২০০০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। কোর্টনি ওয়ালশের অনবদ্য বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৩ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ইংল্যান্ড দল থেকে প্রত্যাখ্যাত হলে ওয়ারউইকশায়ার ছেড়ে সারেতে চলে যান। ২০০৩ সালে অবসর গ্রহণের পূর্বে আরও একবার দল পরিবর্তন করে হ্যাম্পশায়ারের সদস্য হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র ৫.২৮ গড়ে রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, সৌভাগ্যবশতঃ উইকেটের (৪৭৮) তুলনায় তাঁর রান সংখ্যা (৫৩৪) অধিক ছিল।
একবার ব্রিটেনের সর্বাপেক্ষা ‘সুদর্শন কুমার’ হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। শারীরিক সুস্থতা আনয়ণে £১০,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিং এক মৌসুমে ব্যয় করেন। আমাজন কর্তৃক গ্রীষ্মে ভ্রমণ করেন।
বেশকিছু বিতর্কের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ১৯৯৬ সালে কোকেইন মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়ায় আঠারো মাস নিষিদ্ধ হন। এরফলে, সাসেক্স দল থেকে বাদ পড়েন। এছাড়াও, বল ছুঁড়ে মারার ন্যায় নো-বল করেন। খেলা গড়াপেটায় অংশগ্রহণের কারণে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ২৪ মে, ২০০৪ তারিখে ইসিবি কর্তৃক £৫,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিং জরিমানাসহ £১,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিং ব্যয় ধার্য করা হয়। এছাড়াও, পাঁচ বছরের জন্যে যে-কোন ধরনের খেলায় অংশগ্রহণের উপর নিষিদ্ধ ঘোষিত হন। কিছুটা শৃঙ্খলা ও সংযত রাখতে পারলে হয়তোবা সেরা বোলারে পরিণত হতে পারতেন।
