৭ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

চার বছরের অধিক সময় ধরে জিম্বাবুয়ে দলের ব্যাটসম্যান হিসেবে নিয়মিতভাবে খেলতেন। টেস্টে ব্যাটিং উদ্বোধনে ও একদিনের ক্রিকেটে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ও দক্ষতা প্রদর্শনকল্পে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তবে, ব্যাট হাতে নিয়ে সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতিশীলতাকে বাস্তবায়িত করতে ব্যাপকভাবেই ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু, ক্রিজে অবস্থানকালে উইকেটে দ্রুত রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখাতেন। এছাড়াও, ফিল্ডার হিসেবে দূর্দান্ত ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রাখেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, মাতাবেলেল্যান্ড ও মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০০১ থেকে ২০০৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সব মিলিয়ে ২৯ টেস্ট ও ৮২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০১ সালে নিজ দেশে নাইমুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের দলের মুখোমুখি হন। ১৯ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অ্যান্ডি ব্লিগনটব্রাইটন ওয়াতাম্বা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইনিংস ও ৩২ রানে তাঁর দল জয় পায়। ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বে স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে টেস্টে পূর্বেকার সংগৃহীত সর্বোচ্চ রানের সমকক্ষ হন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় দিন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে সাথে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৮২ রান তুলে দ্বি-পক্ষীয় রেকর্ড গড়েন। খেলায় তিনি ৭১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের বীরোচিত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা বেশ নড়বড়ে হয়েছিল। মার্চ, ২০০২ সালে দিল্লিতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে শতরানের দোড়গোড়ায় অবস্থান করে ৯৪ রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, ২০০৩ সালে বিবর্ণ হয়ে পড়া ইংল্যান্ড সফরে দুই টেস্টের উভয়টিতেই অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। টেস্টে কোন শতরানের ইনিংস খেলতে পারেননি।

নভেম্বর, ২০০১ সালে ঢাকায় স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। ১২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরপূর্বে এ স্তরের ক্রিকেটে প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। উইকেটে রান সংগ্রহে তৎপরতাসহ সর্বত্র শট খেলতে দক্ষ হলেও একদিনের আন্তর্জাতিকে দ্রুত লয়ে রান তুলতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র ৫৬.৮১ স্ট্রাইক রেটে রান পেয়েছেন।

২০০৪ সালে দলে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে হিথ স্ট্রিকের বাদ পড়ার পর বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়ে পরিণত হন ও সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ২০০৫ সালে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ১৪ ও ৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইরফান পাঠানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ভারত দল ১০ উইকেটে জয় তুলে নিলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০০৫ সালের শেষদিকে খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে আর্থিক সংঘাতের কারণে তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাঁকে চুক্তির আওতায় আনা হয়নি। এরফলে, ক্লাব ক্রিকেট খেলতে চুক্তিবদ্ধ হন ও ইংল্যান্ডে চলে যান। নর্দান্টস ক্রিকেট লীগে স্টোনি স্ট্রাটফোর্ড টাউনের পক্ষে খেলেন। ২০০৭ সালে ক্লাবের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এরপর, নিউজিল্যান্ডে চলে যান। এ পর্যায়ে দৃশ্যতঃ জিম্বাবুয়ের পক্ষে চিরতরে ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার আভাষ দেন।

তবে, দুই বছর পর সবকিছুতেই পরিবর্তন আনেন। জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসেন। মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের পক্ষে খেলতে থাকেন। পুণরায় জাতীয় পর্যায়ে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। প্রথম মৌসুমে মাঝারিমানের ফলাফল করেন। শেনলি ভিলেজ ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। ২০১১ সালে ক্লাবের অধিনায়ক ও প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ২০১৮ সালে ক্যান্টারবারির সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট