|

অ্যান্ডি ব্লিগনট

১ আগস্ট, ১৯৭৮ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

আরামপ্রিয় চরিত্রের অধিকারী। নামের প্রথমাংশ আর্নোল্ডাস মৌরিতাস দিয়েই বোঝা যায় যে, আফ্রিকানার কৃষক পরিবারের সন্তান। স্বীয় শক্তিমত্তার সাথে সঙ্গতি রেখে পেস বোলিং রপ্ত করেছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৯ থেকে ২০১০ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট, ৫৪টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে নাইমুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। টেস্ট অভিষেকে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৫/৭৩ দাঁড় করিয়েছেন। ১৯ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে এ সাফল্য পান। ব্রাইটন ওয়াতাম্বাডিওন ইব্রাহিমের সাথে তাঁর একযোগে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৩২ রানে জয় তুলে নেয়। অবশ্য, অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিজে প্রথম বলেই শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছেন। তাসত্ত্বেও, ভয়ঙ্কর চোখ নিয়ে বামহাতে বেশ কার্যকর স্ট্রোকপ্লে মারতেন। এছাড়াও, চমৎকার ফিল্ডিং করতেন।

২০০১ সালে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/৮৪ ও ৫/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন। অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৪ উইকেটে জয় পায় ও সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রঙিন চুল নিয়ে খেলার মাঠে উপস্থিত হন। বীতশ্রদ্ধ হয়ে ২০০১-০২ মৌসুমে খেলা থেকে সড়ে আসেন। সতীর্থ খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে প্রশাসকদের সাথে আর্থিক মতবিরোধের কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর, বেশ কিছু কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তন্মধ্যে, পুরুষদের মডেলিং অন্যতম ছিল। তবে, আগস্ট, ২০০২ সালে পুণরায় খেলার জগতে ফিরে আসার কথা ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম খেলায় ৫/৭৯ লাভ করেন। এরপর থেকে দলে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করে ফেলেন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটসহ একই বছরের শেষদিকে ইংল্যান্ড সফরেও বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত টেস্টে সফরকারী বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। এরফলে, জিম্বাবুয়ের একমাত্র বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন।

১৫জন বিদ্রোহী খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে জিম্বাবুয়ে বোর্ডের বিপক্ষে অবস্থান করেন। ফলে সকলের সাথে তাঁকেও বাদ দেয়া হয়। জুন, ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের সাথে ছিলেন। তাসমানিয়া দলের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। এছাড়াও ইংরেজ গ্রীষ্মে ডারহাম দলের সাথে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করেন। তবে, তাসমানিয়া কর্তৃপক্ষ অচিরেই তাঁর সাথে চুক্তি ছিন্ন করে। আঘাতের কবলে পড়েন ও ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ সালে নিঃশর্তে জিম্বাবুয়ে দলে ফিরে আসেন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ৮৪* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮০ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ভারত দল ১০ উইকেটে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঐ বছরের শেষদিকে বোর্ডের সাথে মতবিরোধের ফলে ধর্মঘটে যুক্ত হন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় লায়ন্স দলের সদস্য হন। এক পর্যায়ে টাটেন্ডা তাইবু’র উত্তরসূরী হিসেবে অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পান। কিন্তু, বোর্ডের কাছ থেকে পাওনা অর্থ ব্যতিরেকে খেলতে অস্বীকৃতিজ্ঞাপন করেন।

চার বছর খেলার জগৎ থেকে দূরে ছিলেন। অতঃপর, ২০১০ সালের শুরুতে কয়েকজন সাবেক খেলোয়াড়ের সাথে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে ফিরে আসেন। বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের সাথে চুক্তিতে উপনীত হন। এরপর, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন। পাশাপাশি, নিজ দেশে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশ নেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট