|

ব্রাইডন কার্স

৩১ জুলাই, ১৯৯৫ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পিয়ারসন হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ডারহাম, ডারহাম দ্বিতীয় একাদশ, ইস্টার্ন প্রভিন্স অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নর্দার্ন সুপারচার্জার্স ও সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের পক্ষে খেলেছেন। শক্তসামর্থ ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর হাতের বোলিং ভঙ্গীমা বেশ দৃষ্টিনন্দন। ডারহামে শিক্ষানবিশ সময়কাল আঘাতে জর্জড়িত থাকলেও ইংল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ পান।

২০২১ সালে কোভিডের কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজে ইংল্যান্ডের পুরো দল বদলানোকালে তিনি নতুনমুখের অন্যতম ছিলেন। তৃতীয় খেলায় পাঁচ-উইকেট লাভ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিমোহিত করেন।

২০২২ সালে মাত্র দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে, পরবর্তী গ্রীষ্মে দূর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান ও অল-রাউন্ডারের তকমা খুব বেশী দূরে না থাকার ইঙ্গিত দেন। ইংল্যান্ড দলে সিমারের ঘাটতি দূরকল্পে ঐ মৌসুমের শেষদিকে টি২০আইয়ে প্রথম খেলার সুযোগ পান। এক পর্যায়ে ভারতে অনুষ্ঠিত ওডিআই বিশ্বকাপে আঘাতগ্রস্ত রিস টপলি’র পরিবর্তে তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করলেও ইংল্যান্ডের নর্থইস্টে নিজেকে শাণিত করেন। নর্থইস্টে থাকাকালীন প্রথমবারের মতো ২০১৪ সালে ডারহাম লীগে বার্নমুরের পক্ষে বিদেশী পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। এ পর্যায়ে তিনি মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। তবে, মাঝে-মধ্যে সিম বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তাঁর পিতা জেমস কার্স প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন। ১৯৮০-এর দশকে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতেন। কার্সের যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট রয়েছে ও ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে বসবাসকারীর যোগ্যতা লাভের অধিকারী হন।

২০১৬ মৌসুমের গ্রীষ্মের শুরুতে ও শেষদিকে দূর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। তবে, মধ্যবর্তী সময়কালে আঘাতের কবলে পড়েন। ৫ এপ্রিল, ২০১৬ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত ডারহামের সদস্যরূপে ডারহাম এমসিসিইউ দলের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঐ মৌসুমে আট খেলা থেকে ১৭ উইকেট দখল করেন।

২০১৯ সালে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে ইংল্যান্ড দলের নজরে চলে আসেন। অস্ট্রেলিয়ায় লায়ন্সের সফরে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রয়্যাল লন্ডন কাপে ডারহাম দলে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন। চ্যাম্পিয়নশীপে ২৬.৮৫ গড়ে ৩৫ উইকেট দখল করেন। তবে, আঘাতের কবলে পড়লে দুই মৌসুম হতাশাচ্ছন্ন হয় পড়েন। অস্ট্রেলিয়ায় চার খেলায় অংশ নিয়ে আট উইকেট পান। এ সফরে লায়ন্স দল অপরাজিত থাকে। তন্মধ্যে, এমসিজিতে অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির খেলায় অস্ট্রেলিয়া এ দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় জয়লাভ অন্যতম ছিল।

২০২১ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে অলি পোপের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ৭ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭৪ ও ২/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ ত্রি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ডব্লিউপি ও’রোর্ককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৫০। দ্বিতীয় ইনিংসেও এ ধারা অব্যাহত রাখেন। এমজে হেনরিকে বিদেয় করে পূর্বেকার সাফল্যকে ছাঁড়িয়ে যান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৬৪। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৪/৬৪ ও ৬/৪২ লাভ করেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২৫ সালে নিজ দেশে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭১ ও ০/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১৩০ ও ০/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাভূত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট