|

রজার প্রিডো

৩১ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের চেলসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

বোম্বের পেড্ডার রোডে স্বীয় ভ্রাতাকে নিয়ে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। টেড ডেক্সটারকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেন। দীর্ঘ দূরত্ব নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। স্লিপ বরাবর বল ফেলতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কেন্ট, নর্দাম্পটনশায়ার ও সাসেক্স এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। নর্দাম্পটনশায়ারের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। সারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে।

১৯৫৯ সালে কানাডা সফরে যান। সেখানে তিনি বেশ দর্শক সমাদৃত ছিলেন। ১৯৬০ সমারসেটের বিপক্ষে আলোচিত খেলায় অংশ নেন। উভয় ইনিংস থেকেই শতরানের সন্ধান পান। এরফলে, টনি লুইসের সাথে ২৮৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা সফলতার সাথে সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় দল।

১৯৬৮ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র তিন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মাত্র ১০২ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে নিজ দেশে ব্যারি জার্মানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুলাই, ১৯৬৮ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। কিথ ফ্লেচারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। জন গ্লিসনের বলে বিদেয় নেয়ার পূর্বে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন। জন এডরিচের সাথে ১২৩ রানের জুটি গড়েন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা পিছিয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগলে ওভালের চূড়ান্ত টেস্টে তিনি খেলার সুযোগ পাননি ও তাঁর পরিবর্তে বাসিল ডি’অলিভেইরা খেলেন।

সিলন সফরের পর ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। অস্থিতিশীল পরিবেশে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে ঢাকা যেতে অনীহা প্রকাশ করলেও কর্তৃপক্ষ অনঢ় থাকে। ঢাকায় যাবার পর কিছু ছাত্র তাঁদেরকে নিশ্চিত করে যে, ‘আমরা তোমাদের দেখাশোনা করবো।’ এ পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বেকার অস্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। কলিন মিলবার্নের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে তৎপর ছিলেন।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে নিয়মিতভাবে রানের সন্ধান পেয়েছেন। নর্দাম্পটনশায়ারের সাথে কলিন মিলবার্নের সাথে জুটি গড়ে ইনিংস উদ্বোধনে বেশ সাড়া জাগান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪১ শতক সহযোগে পঁচিশ হাজারের অধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৭১-৭২ মৌসুমের শীতকালে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের পক্ষে খেলেন। গল্ফে আসক্ত ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন শেষে কেন ব্যারিংটনের সাথে গল্ফ খেলতেন। ব্যক্তি হিসেবে তিনি বেশ মিশুক প্রকৃতির ছিলেন। এক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। আরই ওয়েস্টব্রুক নাম্নী এক রমণীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। উভয়েই ইংল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরফলে, প্রথম স্বামী-স্ত্রী হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। রুদ ওয়েস্টব্রুক উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ড মহিলা দলের পক্ষে ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে ইংল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ ও ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পরিচালনায় দলটি ১৯৯৩ সালের মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করে। ছয় ক্রিকেট দম্পতির অন্যতম হিসেবে তাঁরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেছেন। এপ্রিল, ২০১৬ সালে ৬৫ বছর বয়সে রুদ ওয়েস্টব্রুকের দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট