২ অক্টোবর, ১৯৪৮ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৮১-৮২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি, সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস, নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, কোন টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে জন পার্কারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। এ সফরে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। এ সফরের প্রথম খেলায় শতক হাঁকিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তবে, পরবর্তী খেলাগুলোয় একই ধরনের সাফল্য লাভে ব্যর্থ হলেও তাঁকে টেস্ট দলে রাখা হয়। ৯ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে লাহোরে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। পিটার প্যাথেরিক ও ওয়ারেন লিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টে ৯২ রানের ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে পঞ্চম উইকেটে মার্ক বার্জেসের (১১১) সাথে ১৮৩ রানের জুটি গড়ে নতুন নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড দাঁড় করান। তাসত্ত্বেও ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। সিরিজের প্রত্যেকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তবে, ভারত সফরে তাঁকে দলে রাখা হয়নি।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমের গ্রীষ্মে নিজস্ব সেরা সময় অতিবাহিত করেন। ৩৮.৫৯ গড়ে ৮৪৯ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, তাঁকে পুণরায় নিউজিল্যান্ড দলে ফিরিয়ে আনা হয়। এ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। জিওফ বয়কটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ২৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ক্রিস ওল্ডের শিকারে পরিণত হয়ছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে পরাভূত করেছিল। ৭২ রানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৭৮ সালে ফিরতি সফরে মার্ক বার্জেসের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দ্বিতীয়বারের মতো ইংল্যান্ডে যান। স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই অংশ নেন। কাউন্টি খেলাগুলোয় যথেষ্ট সফলতা পান। তন্মধ্যে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৫৫ রান তুলেন। কিন্তু, টেস্টে এর ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যায়। ছয় ইনিংসে অংশ নিয়ে মাত্র ২৯ রান তুলতে সক্ষম হন। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, এটি তাঁর অন্যতম বড় ধরনের ব্যর্থতা ছিল। ২৪ আগস্ট, ১৯৭৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৬ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জিওফ হাওয়ার্থের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তা সত্ত্বেও সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৭৮ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। তাঁর পিতা ম্যাক অ্যান্ডারসন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার অব্যবহিত পরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।
৩১ মে, ২০২৫ তারিখে হোয়াঙ্গারেইয়ে ৭৬ বছর ২৪১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
