২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে মানাওয়াতুর ড্যানভার্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
গ্লেন টার্নারের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী তিন ভ্রাতার পরিবারে তাঁর জন্ম। তবে, ভ্রাতৃত্রয়ের মধ্যে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ ও সেরা ছিলেন। ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ চিত্তে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। কিছুটা পিছনের পায়ে ভর রেখে সীমিত পর্যায়ে স্ট্রোক খেলতেন। এছাড়াও, চমৎকার ফিল্ডিং করতেন। প্রয়োজনে উইকেট-রক্ষণেও অগ্রসর হতেন। ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডে চলে যান ও সেখানে সফলতার সাথে ওরচেস্টারে যাচাইবাছাইয়ে অংশ নেন। প্রথম খেলাতেই ৯১ রানের ইনিংস খেলেন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৮১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৩৬ টেস্ট ও ২৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিজ দেশে ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। রিচার্ড হ্যাডলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তেমন সুখকর হয়নি। ফিল্ডিংকালে হাতের হাড় ভেঙ্গে ফেলেন ও ব্যাট করতে পারেননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
ইংল্যান্ড সফরে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পর ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২৭ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ও ২৫ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১০৮ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২৭ রান সংগ্রহকালীন পূর্বতন সর্বোচ্চ রানকে ছাঁপিয়ে যান ও প্রথম টেস্ট শতকের সন্ধান পান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে ফিরতি সফরে ক্রাইস্টচার্চে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তবে, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ধারাবাহিকভাবে খেলেননি ও নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে অনেকাংশেই সফলতা পান।
১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ডেনিসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১২১ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ ও ৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে গ্লেন টার্নারের সহকারী হিসেবে পাকিস্তান ও ভারত গমন করেন। করাচীতে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি খেলায় নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেন।
১৯৮০-৮১ মৌসুমে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৬ ও ১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য বোলিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে প্রায় আট বছর খেলেছেন। সহজাত প্রকৃতির ব্যাটসম্যান না হলেও প্রচণ্ড মনোযোগ ও প্রতিযোগীসূলভ মনোভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছিলেন। এক পর্যায়ে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হন। টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। প্রাপ্ত তিনটি শতকের সবকটিই শীর্ষ তিন অবস্থানে থেকে সম্পন্ন করেছিলেন। তবে, খেলায় ছন্দপতন ঘটতে থাকলে মাঝারিসারিতে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর আর তাঁকে দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় তিন অঙ্ক স্পর্শ করতে দেখা যায়নি।
ওডিআই খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত ছিল ও অনেকাংশেই উল্লেখযোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে টেলিভিশনের পর্দায় ধারাভাষ্যকার হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ইজে পার্কার নাম্নী এক কন্যা রয়েছে।
