২০ জুন, ১৯৮১ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংসহ মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের লম্বার্ড বিশ্ব অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় প্রথম খেলে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৭ রান করেন। এরপর, চূড়ান্ত খেলায় ভারতের বিপক্ষে হাসান রাজাকে নিয়ে খেলেন। তবে, ঐ খেলায় তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল।
সম্মুখের পায়ের উপর ভর করে খেলতে অভ্যস্ত ছিলেন। তবুও বেশ ভালোমানের কাট করতে পারতেন। এছাড়াও, কার্যকরী অফ-স্পিন বোলার হিসেবে আবির্ভূত হতেন। খুব সহজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তাঁকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, লাহোর ও পাকিস্তান রিজার্ভসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিএল পাকিস্তান একাদশ, লাহোর বাদশাহ ও মুম্বই চ্যাম্পসের পক্ষে খেলেছেন।
২০০১ থেকে ২০১৪ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ৪৪ টেস্ট ও ২২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২৭ অক্টোবর, ২০০১ তারিখে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০০১ সালে নিজ দেশে নাইমুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৯ আগস্ট, ২০০১ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। শোয়েব মালিকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১০৪ রানের শতক হাঁকান। এরফলে, পাকিস্তানের পক্ষে অষ্টম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক টেস্টে শতক হাঁকানোর কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। তবে, দানিশ কানেরিয়া’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৬৪ রানে জয় পায়।
এরপর, বিশ্বমানের অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণ মোকাবেলান্তে ৮৮ রান তুলেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে ওয়াকার ইউনুসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ৯ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ৭৫ ও ১১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১১৯ রানে জয় পায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।
২০০৩ সালে কেপটাউনে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিখুঁত ১৩৫ রান করেন। এ ধরনের বাউন্সি পিচে সিমারদেরকে এক চোট তুলে নেন। তাসত্ত্বেও বিশ্বকাপের আসরে তাঁকে তেমন সুযোগ দেয়া হয়নি। তবে, পরবর্তীতে নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আবারও তিনি নিজেকে দলের অমূল্য সম্পদ হিসেবে আবির্ভূত করেন। চার ইনিংসে একটি শতরান ও তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন।
তাসত্ত্বেও, দল নির্বাচকমণ্ডলী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের উপর আস্থা রাখতে পারেননি। কিছুটা দূর্বলমানের খেলার ফলে কয়েক টেস্ট পরই তাঁকে বাদ দেয়া হয়। এ সময়ে দলে তিনি আসা-যাওয়ার পালায় থাকতেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১১১ ও ৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি দানিশ কানেরিয়া’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। দানিশ কানেরিয়া’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই সফরের ২৪ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৬৮ ও ৭১ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ছয়টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি গ্যারি কার্স্টেনের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, এ সিরিজে ৩১৩ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
২০০৩-০৪ মৌসুমে ইনজামাম-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১/৪৭ ও ১/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শোয়েব আখতারের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
তবে, ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চার বছর তিনি টেস্ট দলের বাইরে ছিলেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের মাধ্যমে দলে প্রত্যাবর্তন করেন। এ পর্যায়ে দৃশ্যতঃ দলের নিয়মিত উদ্বোধন ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
রান ক্ষুধায় থেকে নষ্ট সময় মূল্যায়ণে সচেষ্ট হন। ২০১১ সালে আবুধাবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ধৈর্য্যের ফসল হিসেবে ২৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, পাকিস্তানের সপ্তম উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও ১৯৯২ সালের পর প্রথম পাকিস্তানী হিসেবে টেস্টে দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলতে সমর্থ হন।
২০১১ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২০ মে, ২০১১ তারিখে বাসেতেরেতে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ১১ ও ১৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৯৬ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১১-১২ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৮ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে আবুধাবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২৩৬ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কুমার সাঙ্গাকারা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১৪-১৫ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৭ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রস টেলরের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পাকিস্তান দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
