ডনোভান পাগোন

১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তৎকালীন রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০০২ সালে ডুনেডিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৬ রান তুলেন। তবে, ১৬ বছর পর ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডে এ রেকর্ডটি ৬ দিনের ব্যবধানে দুইবার ভেঙ্গে যায়।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। অভিষেক খেলায় নিজেকে বেশ দৃঢ়চিত্তে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। ৩৫ রান তুললেও ক্রিজে অবস্থান করে অফ-স্ট্যাম্পের বলগুলোর দিকে বেশ সজাগ ছিলেন ও বাজে বলকে যথেচ্ছভাবে সমুচিত জবাব দিতেন।

২০০৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর টেস্ট অভিষেকের বিষয়টি অনেকাংশেই অপ্রত্যাশিত ছিল। ২০০৪-০৫ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্রায়ান লারা, রামনরেশ সারওয়ানক্রিস গেইলসহ সাতজন শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানের বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়ে জটিলতায় খেলায় অংশগ্রহণের অনুপস্থিতির কারণে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেছিলেন। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডিজিসেল অ্যান্ড কেবল অ্যান্ড ওয়ারলেস সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। নরসিং দেওনারায়ণের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলনায়ক শিবনারায়ণ চন্দরপলের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৮ এপ্রিল, ২০০৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মাখায়া এনটিনি’র বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। মাখায়া এনটিনি’র দূরন্ত বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০-এর কম গড়ে রান তুলেছিলেন। প্রত্যাশামাফিক নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।