|

জ্যাক ফ্লাভেল

১৫ মে, ১৯২৯ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের ওয়াল হিথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। বোলিংয়ে নিখুঁতভাব বজায় রাখার কারণে কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কিংসউইনফোর্ড সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশুনো করেন। শারীরিকভাবে বেশ শক্ত সামর্থ্যের পরিচয় দিতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ওরচেস্টারশায়ার দলের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। দলটির পক্ষে ৩৯২ খেলায় অংশ নেন। আট মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৬১ সালে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ১৭.৭৯ গড়ে ১৭১ উইকেট পান। দুই বছর বাদে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে এলবিডব্লিউতে হ্যাট্রিক লাভ করেন। তিনবার ইনিংসে নয়-উইকেট লাভ করেছেন।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে বেশ দূরত্ব থেকে বোলিংয়ে অগ্রসর হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে আনেন। তাসত্ত্বেও বেশ দ্রুততার সাথে বোলিং করতেন। লেন কোল্ডওয়েলের সাথে ওরচেস্টারশায়ারের বোলিং উদ্বোধনে অংশ নিতেন। গ্রীষ্মের শুরুতে সবুজ পিচে বেশ প্রভাব ফেলতেন। ১৯৬৪ সালে উভয় দলের চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম শিরোপা বিজয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। অনেকাংশই খেলায় জয় এনে দিতেন। সব মিলিয়ে ৪০১টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে ১৫২৯ উইকেট দখল করেছেন।

১৯৬১ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চার টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬১ ও ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন। দলে ব্রায়ান স্ট্যাদামফ্রেড ট্রুম্যানের ন্যায় সিমারদের ভীড়ে নিজেকে টিকিয়ে রাখা বেশ দূরূহ বিষয় থাকলেও সবমিলিয়ে সাত উইকেট দখল করেছিলেন। সচরাচর, পরিবেশ তাঁর প্রতিকূলে ছিল।

১৯৬১ সালে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ওল্ড ট্রাফোর্ড ও ওভাল টেস্ট খেলেন। ২৭ জুলাই, ১৯৬১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৬১ ও ২/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসেই শূন্য রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৫৪ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

১৯৬৪ সালে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ২ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে উভয় ইনিংসে ৫ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৭ উইকেটে জয় পেয়ে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। জাতীয় সেবা শেষে পেশাদারী পর্যায়ে ওয়েস্ট ব্রোমউইচ অ্যালবিওন ও ওয়ালসের পক্ষে রক্ষণভাগে খেলেছেন। গল্ফের প্রতিও অনুরক্ত ছিলেন। অনেকগুলো বছর এনভিল গল্ফ ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ১৯৬৭ সালে নিউ রোড থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। হিমলেতে গাড়ী রাখার স্থান ক্রয় করেন। এরপর, এটিকে রেস্তোরাঁয় পরিণত করে বারমাউথে চলে যান। সেখানে অতিথিশালা পরিচালনা করেন। এছাড়াও, বাগান চর্চায় সময় অতিবাহিত করতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। মেরি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির এক কন্যা ছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে গাইনিডে বারমাউথ এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। টম গ্রেভনি তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মন্তব্য করেন যে, ‘তিনি কোন অপচয় করতেন না। প্রচণ্ড নিখুঁততার সাথে সিম প্রয়োগ করতেন ও প্রত্যেক বলই ব্যাটসম্যান মোকাবেলা করতে বাধ্য হতো। স্ট্যাম্পের খুব কাছে বল ফেলতেন।’

সম্পৃক্ত পোস্ট