|

বেন ফোকস

১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে এসেক্সের কোলচেস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও সারে এবং শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০১১ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। সহজাত প্রতিভার অধিকারী হিসেবে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর ব্যাটিংয়ে নামেন। এসেক্সের উদীয়মান প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হন। খুব ছোটবেলায় তাঁর প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে ও ইংল্যান্ড দলের পক্ষে নিজেকে খেলার উপযোগী করে তুলেন।

১০ জুন, ২০১১ তারিখে চেমসফোর্ডে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা একাদশ বনাম এসেক্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। তবে, ফস্টারের সাথে তাঁকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। ফলশ্রুতিতে, ২০১৪ সালে সারে দলে চলে যান। সেখানেও তিনি তাঁর উইকেট-রক্ষক হিসেবে প্রতিভার বিকাশে অগ্রসর হন।

২০১২ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ফলশ্রুতিতে, ২০১২-১৩ মৌসুমে ইংল্যান্ড লায়ন্স দলে তাঁকে যুক্ত করা হয় ও সীমিত-ওভারের ক্রিকেট খেলতে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। দল শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি সফল ছিলেন। ২০১৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। এরফলে, ১৯ বছর বয়সেই তাঁকে ট্রেন্ট ব্রিজে অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলার জন্যে ইংল্যান্ড দলের সদস্য করা হয়।

আরও এক মৌসুম গ্লাভস হাতে সারের পক্ষে খেলেন। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে ব্যাট হাতে ৪৪ গড়ে রান পান। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪১ রানের ইনিংস খেলে নিজেকে আরও উপরের দিকে নিয়ে যান।

২০১৮ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমের অ্যাশেজ সফরে গ্লাভস হাতে জনি বেয়ারস্টো’র সহকারী হিসেবে ইংল্যান্ড দলে যুক্ত হয়ে পাদপ্রদীপে চলে আসেন। সারের কোচ অ্যালেক স্টুয়ার্ট তাঁকে বিশ্বের সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। ঐ সফরে কোন টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ না পেলেও জনি বেয়ারস্টো কিংবা জোস বাটলারের অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ড দলে খেলে থাকেন।

২০১৮-১৯ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। পুরো সিরিজে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে রঙ্গনা হেরাথের বিদায়ী খেলায় অংশ নেন। রোরি বার্নসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শতক হাঁকিয়ে অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন। ১০৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭ রান তুলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২১১ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। সপ্তম ইংরেজ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই সফরের ২৩ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ৩৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, বেন স্টোকসের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ৪২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। ২৭৭ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

একই মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, জেসন হোল্ডারের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৩৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০২১-২২ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, জশুয়া ডা সিলভা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২২ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২ জুন, ২০২২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৩২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, জো রুটের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়ী হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২২-২৩ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৮ ও ৫১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৬৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০২৩-২৪ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৬ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, জসপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০৬ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা বিরাজ করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট