|

শোয়েব বশীর

১৩ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে সারের চার্টসি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

ফুলব্রুক স্কুলে পড়াশোনার পর ওকিং কলেজে অধ্যয়ন করেন। ২০২৩ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্কশায়ার ও সমারসেট দ্বিতীয় একাদশে খেলেছেন। ১১ জুন, ২০২৩ তারিখে চেমসফোর্ডে এসেক্সের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে।

২০ বছর বয়সে মাত্র ১০টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করা অবস্থায় অনেকটা আকস্মিকভাবে ২০২৪ সালের শুরুতে ভারত সফরের জন্যে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে যুক্ত হন। ২০২৩ মৌসুমকে ঘিরে সমারসেট দলে এক বছরের চুক্তিতে খেলার জন্যে স্বাক্ষর করেন। এরপূর্বে সফলতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন। প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রীষ্মে সকল স্তরের ক্রিকেটে ১৮ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘদেহী অফ-স্পিনার তিনি ও নিচেরসারিতে ব্যাট করেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সারে দলের পক্ষে খেলেন। তবে, ১৭ বছর বয়সে অবমুক্তি পান। এরপর, মিডলসেক্স ও বার্কশায়ারের সাথে যুক্ত হন। তবে, সমারসেটের দ্বিতীয় একাদশে দূর্দান্ত খেলার পর পেশাদারী পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হন।

টি২০ ব্লাস্টে দল শিরোপা জয় করে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নশীপের বৃহৎ রানের খেলায় ছয় উইকেট লাভ করে খেলাটিকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান। খুব দ্রুত তাঁর চুক্তির মেয়াদ দুই বছরের জন্যে বৃদ্ধি করা হয়। ২০২৩ সালের শেষদিকে সংযুক্ত আরব অভিমুখে ইংল্যান্ড লায়ন্সের সফরেও দূর্দান্ত খেলেন। মিগায়েল প্রিটোরিয়াসের দলে প্রত্যাবর্তন স্বত্ত্বেও সমারসেট দলে তাঁকে রাখা হয়।

২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের তিনটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে ৮* ও ০ রান সংগ্রহসহ ৩/১৩৮ ও ১/৫৮ লাভ করেন। তবে, জসপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০৬ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা বিরাজ করে।

পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে রাঁচি টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট পান। প্রথম দুই টেস্ট শেষে ৩২.৮৩ গড়ে ১২ উইকেট লাভ করেন। সবমিলিয়ে ঐ সিরিজে ৩৩.৩৫ গড়ে ১৭ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, কোন টেস্টেই তাঁর দল জয়লাভ করেনি ও স্বাগতিক দল ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

২০২৪-২৫ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ২৪ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ৩/১২৯ ও ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে ১* ও ৪* রান সংগ্রহ করে অপরাজিত ছিলেন। তবে, সৌদ শাকিলের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/৬৯ ও ০/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ব্রাইডন কার্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া এগিয়ে যায়।

২০২৫ সালে নিজ দেশে ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ মে, ২০২৫ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। বেশ কয়েকবার তিনি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে সিআর আরভিনের প্রথম উইকেট লাভ করে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে এলটি চিভাঙ্গাকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৪১। খেলায় তিনি ৩/৬২ ও ৬/৮১ পান। এ নিয়ে তিনি পাঁচবার ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এ পর্যায়ে তিনি ৩৬.৪০ গড়ে ৫৮ উইকেট দখল করেন। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। তাঁর অনবদ্য বোলিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা চারদিনের টেস্টটি তিনদিনেই করায়ত্ত্ব করে নেয়। ইনিংস ও ৪৫ রানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড দল। এরফলে, জিম্বাবুয়ে দলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের চারটিতে পরাজিত হয় ও একটি ড্র করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

২০২৬ সালে নিজ দেশে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০২৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১০৫ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। ড্যারিল মিচেলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ১৬০ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট