২১ আগস্ট, ১৯৩৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের প্রিমরোজ হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
পিতা বস্ত্রশিল্পে কাজ করতেন। স্টাইল কমন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। প্রধানশিক্ষক ওয়ালি হিপ তাঁকে অনুপ্রেরণা দিতেন। ১৯৫০ সালে বিদ্যালয় ত্যাগ করে হাডার্সফিল্ড টাউনের মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৭ বছর বয়সে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলতে নামেন। ২১ বছর বয়সে এসে ক্যাপ লাভ করেন।
১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র তিনটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৯ সালে নিজ দেশে দত্তা গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন ও তিন টেস্ট খেলেন। ২৩ বছর বয়সে ৪ জুন, ১৯৫৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। টমি গ্রীনহফ ও মার্টিন হর্টনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আর্থার মিল্টনের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছিলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইনিংস ও ৫৯ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৮ জুন, ১৯৫৯ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৬৪ সালে শেফিল্ডে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ১৬০ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দেয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ইংরেজ দলে ঠাঁই পান। ১৯৬৪ সালে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৭ উইকেটে জয় পেয়ে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
এ টেস্টে আঙ্গুল ভেঙ্গে ফেললে আবারও তা হাতছাড়া হয়ে যায়। জিম সোয়ান্টন তাঁর ‘হিজ ক্রিকেট’ শিরোনামীয় গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ‘চমৎকার টেস্ট ক্রিকেটার হবার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ভাগ্য তাঁকে তা হতে দেয়নি।’
ইয়র্কশায়ারের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে সাতবার চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলায় অংশ নেয়ার পর অবসর গ্রহণ করেন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। বিল শ্যাঙ্কলি’র অধিনায়কত্বে ফুটবলে অংশ নেন। শীতকালে হাডার্সফিল্ড টাউনের পক্ষে খেলতেন। এছাড়াও, হাডার্সফিল্ড আর্ট স্কুল থেকে চিত্রকর হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয়ার পর লন্ডনভিত্তিক স্লেড ফাইন আর্ট স্কুলে প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জেফ ফুলহামের পক্ষে ফুটবল খেলেছেন।
২০০৬ সালে স্টিফেন চক তাঁকে ঘিরে ‘কেন টেলর: ড্রন টু স্পোর্ট’ শিরোনামীয় গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
