|

রয় ট্যাটারসল

১৭ আগস্ট, ১৯২২ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের টঞ্জ মুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৬ ফুট ৩ ইঞ্চির দীর্ঘকায় গড়ন ও লিকলিকে দেহের অধিকারী ছিলেন। বেশ লাফিয়ে বোলিং করতেন ও ব্যাটসম্যানদের দূর্বোধ্য বোলারে পরিণত হন। সিম বোলার থেকে অফ-স্পিনারে পরিণত হন ও পেস সহযোগে বোলিং করতেন। তবে, জিম লেকারের কারণে তাঁর খেলায় প্রতিবন্ধকতা গড়ে উঠে। সমসাময়িক ইয়র্কশায়ারের বব অ্যাপলইয়ার্ডকে সাথে নিয়ে বৃষ্টি পরবর্তী খেলায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়তেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। কাউন্টি ক্রিকেটে অন্যতম সফলতম বোলারের মর্যাদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রতিপক্ষীয় শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন এবং দলীয় সঙ্গী ও সমর্থকদের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

২৫ বছর বয়সে ল্যাঙ্কাশায়ার দলে সিম বোলার হিসেবে খেলতে শুরু করেন। দুই বছর পর অফ-স্পিনের দিকে ঝুঁকে পড়েন ও তাৎক্ষণিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৩.৫৯ গড়ে ১৯৩ উইকেট দখল করে জাতীয় গড়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছেন। দলটির পক্ষে ২৭৭ খেলায় অংশ নিয়ে ১৭.৩৯ গড়ে ১১৬৮ উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, এমিরেটস ওল্ড ট্রাফোর্ডে নটসের বিপক্ষে ৯/৪০ লাভ করেন। খেলার এক পর্যায়ে ৫ বল থেকে হ্যাট্রিকসহ ৪ উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১৬ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৯৫ ও ১/১১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২৭৪ রানে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৪০ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার বল হাতে নিয়ে ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৭ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৪ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে টিবি বার্টকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৯৫। এ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। খেলায় তিনি ১/১৬ ও ৬/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

১৯৫১ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ১৯৫১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৮০ ও ৩/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় সফরকারীরা ৭১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৫ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২৯ ও ১/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের লর্ডস টেস্টে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭/৫২ পান। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সেরা বোলিংয়ে পরিণত হয়।

একই সফরের ২৬ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৮৩ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থাকে।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১২ জানুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/৪৮ ও ২/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ২* ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সমর্থ হয়।

১৯৫৩ সালে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জুন, ১৯৫৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৯ ও ৩/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৫৪ সালে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে খেলেন। ১০ জুন, ১৯৫৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/১২ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে মাঠে নামতে হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ২৬.০৮ গড়ে ৫৮ উইকেট দখল করেন। ১৯৫০-এর দশকের শেষদিকে ল্যাঙ্কাশায়ার দলে আসা-যাবার পালায় থাকেন। তরুণ খেলোয়াড়দেরকে যথাসম্ভব সহায়তার হাত প্রশস্ত করতেন। কিডারমিনস্টার থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ দলটিতে অনেকগুলো বছর পেশাদারী পর্যায়ে খেলেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ফাইলিস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই কন্যা ছিল। ৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে ৮৯ বছর ১১৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট