|

কেনি বেঞ্জামিন

৮ এপ্রিল, ১৯৬৭ তারিখে অ্যান্টিগুয়ার সেন্ট জোন্সে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

চার্লি গ্রিফিথের নামানুসারে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্নস ও গটেং এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ২৬টি টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২ সালে নিজ দেশে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৫ বছর বয়সে ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ডেভিড উইলিয়ামসজিমি অ্যাডামসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর এটিই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট ছিল।

স্থানীয় ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার অ্যান্ডারসন কামিন্সকে বাদ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবার বিষয়টি বিরূপ প্রভাব ফেলে ও কেনসিংটন ওভালের স্টেডিয়াম প্রায় খালি থাকে। এমনকি ব্যানারে ‘নো কামিন্স, নো গোয়িংস’ শিরোনামে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে নয় নম্বর অবস্থানে নেমে রিচার্ড স্নেলের বলে এক রানে বিদেয় নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে অ্যান্ড্রু হাডসনগ্যারি কার্স্টেনের উইকেট পান। দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যালান ডোনাল্ডের বলে সাত রানে বিদেয় হন ও দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। খেলায় তিনি ২/৮৭ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ঐ খেলায় কার্টলি অ্যামব্রোসের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫২ রানের স্বল্প ব্যবধানে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল।

একই বছরের ৪ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে পার্থে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কোর্টনি ওয়ালশ ও কার্টলি অ্যামব্রোসের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ পরিচালনা করতেন। শুরুরদিকের বছরগুলোয় নিজেকে তেমন মেলে ধরতে না পারলেও ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ খেলা উপহার দেন। কিংস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬/৬৬ লাভ করেন। পরের খেলায়ও এ ধারা অব্যাহত রাখেন ও সাত উইকেট দখল করেন। ঐ সিরিজে ২২ উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান তুলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৯১ ও ১/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

সুইং উপযোগী পরিবেশে নিজের সেরা খেলা প্রদর্শন করতে পারতেন। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ৫-খেলায় অংশ নিয়ে ২৩ উইকেট পান। পরবর্তী দুই বছর দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন।

১৯৯৫ সালে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৬০ ও ১/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। ইয়ান বিশপের অপূর্ব বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১০ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/১০৫ ও ৫/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর প্রাণান্তঃকর প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২২ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৯৭ ও ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইয়ান হিলি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ১২৩ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৯ ও ১/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অনিন্দ্যসুন্দর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১২৪ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯৮ সালে নিজের শেষ খেলায় অংশ নেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৪ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের বোলিং দাপটে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা বিরাজ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলো থেকে ৩০.২৭ গড়ে ৯২ উইকেট দখল করেছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট