|

নাসির জামাল

২১ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করে থাকেন। পাশাপাশি, দূর্দান্ত ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে বন্দ-ই-আমির রিজিওন ও বুস্ট রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে আফগানিস্তানের পঞ্চম বিভাগ থেকে উত্তরণের সাথে জড়িত জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রইস আহমদজাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণে অগ্রসর হয়েছেন। দুইবার যুবদের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, একবার অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কিছুটা ব্যাটসম্যান হবার চিত্র চোখে পড়ে। দর্শনীয় স্ট্রোকপ্লে মারার অধিকারী। যে-কোন দল নির্বাচকের কাছেই তাঁকে উপেক্ষিত করা বেশ কঠিন বিষয়। প্রচণ্ড চাপের মাঝেও সংযত ভূমিকা অবলম্বন করে থাকেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দারুণ খেলেন। তবে, উইকেটে থিতু হবার পরপরই অস্থির চিত্তে খেলার প্রবণতা রয়েছে।

২ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে শাপিজা ক্রিকেট লীগে মিস আইনাক নাইটসের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ২ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে উপর্যুপরী দ্বিতীয়বার ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে আফগানিস্তান দল শিরোপা জয় করে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ২০১৫-১৭ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন।

সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী আসরে কান্দাহার দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে এসিসি এমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্য হন।

২০১৪ থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। জুলাই, ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ড্র হওয়া ওডিআই সিরিজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‌আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২২ জুলাই, ২০১৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম খেলেন। এরপর থেকেই মাঝারিসারিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দিতে থাকেন। তন্মধ্যে, ৮ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে ত্রি-দেশীয় সিরিজে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ৫১ বল মোকাবেলায় ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন।

মে, ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের ক্রিকেটে ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, ঐ খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে ভারতের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে রাখা হয়। এবারও মাঠে নামতে পারেননি।

নভেম্বর, ২০১৯ সালে আবারও আফগানিস্তানের টেস্ট দলের সদস্য হন। ২০১৯-২০ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রশীদ খানের অধিনায়কত্বে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টে প্রথমবারের মতো খেলেন। ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে ভারতের লখনউয়ে আমির হামজা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ১৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। রহকিম কর্নওয়ালের অপূর্ব বোলিংয়ের কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল। ২০২৩-২৪ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে আবুধাবির টলারেন্স ওভালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হন। খেলায় তিনি মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ব্যাট হাতে ০ ও ২ রান তুলতে সক্ষম হন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৬ উইকেটে পরাজিত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট