৪ নভেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পেনাল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী হলেও গ্লাভস হাতে স্ট্যাম্পের পিছনে থেকে দারুণ খেলতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৮৮ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্ট ও ৩৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে রাজকোটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ঐ বছর তিনি আর মাত্র তিনটি ওডিআই খেলেন। ১৯৮৯ সালে একটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এ পর্যায়ে তিনবার মাত্র ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে মাত্র ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

নিজের ষষ্ঠ ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার জন্যে এক বছর ১০ মাস অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। নভেম্বর, ১৯৯০ সালে মুলতানে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ১০ রান তুলেন। এটিই তাঁর দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শের প্রথম ঘটনা ছিল। পরের ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার জন্যে আরও এক বছর অপেক্ষা করেন। ১৯৯১ সালে জেফ ডুজনের অবসর গ্রহণের পর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ক্রমাগত রান তুলতে থাকেন।

১৯৯২ সালে নিজ দেশে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। কেনি বেঞ্জামিন ও জিমি অ্যাডামসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়ে চারটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। কার্টলি অ্যামব্রোসের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫২ রানে জয়লাভ করে।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৪৮ ও ০ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলার এক পর্যায়ে নিম্ন রক্তচাপে আক্রান্ত হলে মাঠ ত্যাগ করেন ও অভিষেক ঘটা ফিলো ওয়ালেস উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ইনজামাম-উল-হকের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৯ রানের ব্যবধানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। পোর্ট অব স্পেন টেস্টে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অর্ধ-শতক হাঁকান। পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র অর্ধ-শতরান ও সর্বোচ্চ ইনিংসে পরিণত হয়।

একই সফরের ১২ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। মার্ক রামপ্রকাশের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

গ্লাভস হাতে প্রতিভার দূর্দান্ত বিচ্ছুরণ ঘটালেও কেবলমাত্র ব্যাটিংয়ের মান দূর্বলতার কারণে নিজেকে বেশীদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। জেফ ডুজনের পদাঙ্ক অনুসরণ করা খুব বেশী সহজ কাজ ছিল না। ব্যতিক্রমধর্মী উইকেট-রক্ষণ ও দূর্দান্ত ব্যাটিং শৈলীর অধিকারী হিসেবে ডেভিড উইলিয়ামস অগ্রসর হয়েছিলেন। সহজাত প্রকৃতির উইকেট-রক্ষক হিসেবে চিত্রিত হলেও ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ ছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কোচ হিসেবে অনেকগুলো শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ৬ অক্টোবর, ২০০৭ তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহকারী কোচ হিসেবে মনোনীত করা হয়। অতঃপর, ৩ মার্চ, ২০১২ তারিখে র‍্যাডফোর্ডকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট